সাংবাদিক কাজলকে বিনা শর্তে মুক্তি দিন : আর্টিকেল নাইনটিন

0
107

নিখোঁজের ৫৪ দিন পর সন্ধান মেলা আলোচিত ফটোসাংবাদিক ও পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলের অবিলম্বে ও বিনা শর্তে মুক্তির দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। নিখোঁজ থাকা কাজলকে উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি প্রক্রিয়ার ‘অপব্যবহার’ করা হয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, অপহরণের শিকার একজন নাগরিককে পিছমোড়া করে হাতকড়া লাগানো, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তার মুক্তি আটকাতে অপর একটি আইনের অপব্যবহার করে তাকে ফের গ্রেফতার করা এবং কারাগারে স্বজনদের দেখা করতে বাধা দেওয়া- এসবই কাজলের ক্ষেত্রে একই দিনে ঘটেছে, যা মৌলিক মানবাধিকার ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আর্টিকেল নাইনটিন এর তীব্র নিন্দা জানায়।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘’করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার যখন কারাবন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে, তখন কাজলকে যে প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো ভয়ঙ্কর কোনো মামলার আসামি কাজল নন। তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিন্ন যে তিনটি মামলা হয়েছে, তাও কেবল ফেসবুকে মত প্রকাশের জন্য। এসব মামলার অন্তত একটিতে অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত আছেন। তাহলে কাজলকে আটকে রাখার জন্য কেন এতো তোরজোড়?’’

আর্টিকেল নাইনটিন উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র ক্রমাগতভাবে সঙ্কুচিত হচ্ছে এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একের পর এক মামলার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। এই প্রবণতা ভয়ের সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে, যা মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম তথা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। আর্টিকেল নাইনটিন আইনটি বাতিলের দাবি জানায়।

ফারুখ ফয়সল বলেন, ’কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার অপহরণের একটি মামলা করেন। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজল কোথায় ছিলেন, কে বা কারা কেন এবং কোথায় তাকে নিয়ে গেল, কীভাবে তিনি বেনাপোল সীমান্তে এলেন- এসব প্রশ্নের পরিষ্কার জবাব পাওয়াটা এখন জরুরি। কাজল নিখোঁজের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এই সময়ে হওয়া উচিত এবং কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’’

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারহীনতাকে সরকার আসকারা দেওয়ার প্রবণতা যদি অব্যাহত রাখে, তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রও হুমকির মুখে পড়বে বলে ফারুখ ফয়সল মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় দৈনিক পক্ষকাল অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী নয়ন। পরে ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক।

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে জড়িতদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তাতে আসামির তালিকায় শফিকুল ইসলাম কাজলের নামও রয়েছে। মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর গত ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলাটি করেছিলেন।

১০ মার্চ সন্ধ্যা থেকে কাজলের কোনো সন্ধান ছিল না। এরপর ২ মে রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠের মধ্য থেকে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে উদ্ধার করে যশোর ৪৯ বিজিবির রঘুনাথপুর ক্যাম্পের টহল দল। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে গভীর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী বলেন, রাতে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা কাজলকে সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠের মধ্য থেকে উদ্ধার করে। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :