ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি

0
137

করোনা মহামারির সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার চলছে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সুস্পষ্ট ভাষায় সরকারকে জানাতে চায়, বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল সরকারকে জনরোষের আগুন থেকে রক্ষার জন্যই অপব্যবহার চলছে। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের এই অন্যায় বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, এই গণবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে। আমরা চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপপ্রয়োগ করে গ্রেফতার ও হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখক, ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনের গ্রেফতারের ঘটনা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, দেশে একটি কার্যকরী মানহানি আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতন ও হয়রানি উদ্দেশ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকেই বারবার ব্যবহার করছে সরকার।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার তো দূরে থাকুক মানুষ তার কষ্টের কথাও যাতে ভার্চুয়াল জগতে প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য একের পর এক পরিপত্র জারি করে চলেছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জেলার বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হরদম গ্রেফতার করা হচ্ছে ও আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছে। অথচ ত্রাণের চালচোর ও গমচোররা নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসবের মধ্যদিয়ে সরকারের নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং ফ্যাসিবাদী চরিত্রের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।

‘দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেই কি পরিপত্র জারি হচ্ছে’-এমন প্রশ্ন রেখে ফখরুল বলেন, সরকারের জারিকৃত পরিপত্রগুলো কী রকম ডিক্টেটোরিয়াল (স্বৈরাচারী) চিন্তা করা যায় না। চাল চুরি হচ্ছে, গম চুরি হচ্ছে, সয়াবিন তেল চুরি হচ্ছে, রিলিফ চুরি হচ্ছে -এসব সম্পর্কে যদি লিখতে যান, তাহলে কি সেটা অন্যায় হবে? সত্য উৎঘাটন করাই তো সাংবাদিকদের কাজ।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই যে সত্য খবর লুকানোর কারণটা কী, হাইড করার কারণটা কী? কেন এই ধরনের দমন-নির্যাতন চলছে? তার অর্থ সত্য কথা যাতে বেরিয়ে না আসে। এটা কার স্বার্থে যাচ্ছে? সরকারের স্বার্থে কিন্তু যাচ্ছে না আল্টিমেটলি।

আপনার মতামত লিখুন :