লাদাখে উত্তেজনা, চীনের হেলিকপ্টার ভারতের যুদ্ধবিমান মোতায়েন

0
126

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঝে সিকিমের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে সংঘর্ষের পর প্রতিবেশি এ দুই দেশের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দু’দিন আগের ওই সংঘর্ষে উভয় দেশের ১১ সেনাসদস্য আহত হওয়ার পর লাদাখে চীনা হেলিকপ্টারের টহল ঘিরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়।লাদাখ সীমান্তে চীনা সামরিক হেলিকপ্টারের টহল শনাক্ত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি। শনিবার উত্তর সিকিম সীমান্তে উভয় দেশের সেনাসদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সরকারি সূত্রগুলো দেশটির সংবাদসংস্থা এএনআইকে বলেছে, ওইদিন নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘেঁষে চীনের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার উড়তে থাকে। তাদের এই চলাচল শনাক্ত হওয়ার পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। সীমান্তে যুদ্ধবিমানের টহল চলে।

তবে চীনা সামরিক হেলিকপ্টার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েনি বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। পরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সুখোই৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য বিমান লেহ বিমানঘাঁটি থেকে লাদাখে মোতায়েন করা হয়।

চীন সীমান্তে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর এই উত্তেজনার মাঝেই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এফ-১৬এস এবং জেএফ-১৭এস রাতের বেলা টহল বৃদ্ধি করেছে। কাশ্মীরের হ্যান্ডওয়ারায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর পাঁচ সদস্য ও দুই কাশ্মীরি নিহত হওয়ার পর এই টহল বাড়িয়েছে পাকিস্তান।

সিকিমে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাকে প্রতিবেশি এ দুই দেশে নিজেদের বলে দাবি করে।এ নিয়ে প্রায়ই উভয় দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বিবিসির দক্ষিণ এশীয় সম্পাদক আনবারাসান এথিরাজন বলেন, বুকে বুকে ধাক্কা, কিল-ঘুষি, লাথির মতো ঘটনা ঘটে। তবে অনেক সময় পরস্পরকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপও করেন উভয় দেশের সেনাসদস্যরা।

হিমালয়ের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার মিটারের বেশি ওপরের নাকু লা সেক্টরে সর্বশেষ এই সংঘর্ষ হয়। বিতর্কিত এই সীমান্ত ঘিরে ১৯৬২ সালে অন্তত দু’বার যুদ্ধে জড়িয়েছিল চীন-ভারত। ২০১৭ সালে এই অঞ্চলে চীন একটি সড়ক নির্মাণকাজ শুরুর চেষ্টা করলে আবারও দুই দেশের মাঝে সংঘর্ষ হয়।

গত চার দশক ধরে সিকিমের এই সীমান্তে প্রায়ই শারীরিক সংঘর্ষ হলেও একবারের জন্যও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।

আপনার মতামত লিখুন :