আপন নিবাসে মডেল অভিনেত্রী প্রিয়া আমানের ঈদ উপহার

0
108

ইমরুল শাহেদ : ওমরাহ হজ পালন করা খ্যাতিমান টিভি মডেল ও অভিনেত্রী প্রিয়া আমান রোজার মধ্যে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর শবে কদরের দিন বুধবার বিকেলে আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের প্রায় একশ’ জনের মধ্যে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি প্রিস বিতরণ করেছেন। এ সময় স্বাস্থ্যরীতি মেনে তার মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শারীরিক কারণেই দীর্ঘক্ষণ মাস্ক পরে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। ঈদ উপহার বিতরণের পরপরই তিনি ফেসবুকে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেন। সেখানে উপস্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন। এদিন তিনি বৃদ্ধাশ্রমে থাকাদের সঙ্গে ইফতারও করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্মানুসারে এক হাতে দান করলে অপর হাত জানার কথা নয়। কিন্তু ফেসবুকে আমার এই ছবিগুলো শেয়ার করার বিভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে। তার একটি হলো আমার দেখাদেখি কেউ যদি অনুপ্রাণিত হন। যদি কেউ আরো সহায়তার হাত নিয়ে এগিয়ে আসেন। অন্য তাৎপর্যগুলো নাই বা বললাম। কেউ যদি বৃদ্ধাশ্রমের দিকে যান তাহলে তারাই বুঝতে পারবেন আমি কেন জানান দিলাম।’ বৃদ্ধাশ্রমে ঈদ পালন করছেন অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত বাবা-মা। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এসব বৃদ্ধদের সন্তানরা বেশির ভাগই প্রতিষ্ঠিত। এর পরও তাদের ঈদ করতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে। আর এই বিশেষ দিনটিতে হতাশা আর শূন্যতা নিয়ে সন্তানের স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এসব মানুষ। বৃদ্ধাশ্রমের সেই সব মানুষদের সঙ্গে ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করলেন অভিনেত্রী প্রিয়া আমান। অনেক নামী-দামী বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, চাকরিজীবী যারা এক সময় খুব বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে এসে নিজের সন্তানের দ্বারাই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বৃদ্ধাশ্রমের স্থায়ী বাসিন্দা হতে বাধ্য হচ্ছেন। পিতা মাতার অবদানের কথা ভুলে গেলে চলবে না বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।

প্রিয়া আমান বলেন, এই ঈদে শপিং করার কি কোনো দরকার আছে? আমি মনে করি তার দরকার নেই। আমাদের সকলেরই কিছু আত্মীয়স্বজন রয়েছেন যারা কিছুটা আর্থিক সহায়তা পেলে খুশি হবেন। তাদের সহায়তা করুন। ঈদ আনন্দ নিয়ে আসে ঠিকই। তবে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এবার আনন্দের কোনো অনুভূতি থাকার কথা নয়।

আপনার মতামত লিখুন :