করোনায় কোর্ট খুললে যদি কোনো মৃত্যু ঘটে দায় কে নেবে?

0
151

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯–এর প্রাদুর্ভাবে বন্ধ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টসহ অধস্তন সব আদালত। কিন্তু তাই বলে থেমে নেই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়ে নিষ্পত্তি ও জরুরি বিষয়াদি এবং জামিন শুনানি। এরই মধ্যে আইনজীবীদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় দুটি ওয়েবিনারের (ওয়েব সেমিনার)।

করোনাকালীন ঘরবন্দি থেকে ভার্চুয়ালে একাধিক আলোচনায় সংযুক্ত হয়েছেন এবং নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।

একাডেমি অব ল’ অ্যান্ড পলিসি (আলাপ) আয়োজিত সম্প্রতি পৃথক দুটি ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী করোনাকালীন অবস্থার মধ্যে কোর্ট খোলা হলে যদি কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তবে তার দায় কে নেবে বলে প্রশ্ন তোলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামের সঞ্চালনায় “কোভিড -১৯ মহামারিকালীন রোগীদের অধিকার” শীর্ষক ওয়েবিনারে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান আইনগুলোর সুষ্ঠু প্রয়োগ প্রয়োজন। সেই সাথে প্রাইভেট হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের জন্য প্রণীত আইন ও বিধিমালাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা আবশ্যক। তাহলেই শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

অন্যদিকে “ভার্চুয়াল আদালতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক আরেকটি ওয়েবিনারে করোনাকালীন কোর্ট পুনরায় চালুর প্রসঙ্গে আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, ‘এ অবস্থার মধ্যে কোর্ট পুনরায় খোলা হলে যদি কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তবে তার দায় কে নেবে? কোর্ট খোলার প্রেক্ষাপটে যদি কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাহলে দোষটা কার ওপর গিয়ে পড়বে? আক্রান্ত ব্যক্তি কেবল দোষটা তার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেবে না। সে এবং তার পরিবার আমাদের প্রতিষ্ঠানকেই দোষ দেবেন।

আপনার মতামত লিখুন :