ওয়েবসিরিজের লাগামহীনতাকে কেন্দ্র করে আবারও অশ্লীলতা নিয়ে বিতর্ক

0
237

ইমরুল শাহেদ : লাগামহীন ইউটিউব প্রোডাকশনের মুক্তি পাওয়া কয়েকটি ওয়েব সিরিজকে কেন্দ্র করে আবারও শ্লল-অশ্লীল প্রসঙ্গটি আলোচনায় চলে এসেছে। এই অমীমাংসিত প্রসঙ্গটি অর্থাৎ শ্লীল-অশ্লীলের সংজ্ঞা নিয়ে শিল্প-সাহিত্যে নানাভাবেই আলোচিত হয়েছে। আসলে অশ্লীল বিষয়টি কী? এর একটি সহজ সমীকরণ হলো ‘যা দৃষ্টিকটু তাই অশ্লীল’। সে অর্থে একজন মানুষের হেঁটে যাওয়াও অশ্লীল হতে পারে। চলচ্চিত্রে শ্লীল ও অশ্লীলের বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল নব্বুই দশকে। তখন সেন্সর নীতিমালা পুনর্বিন্যাস করা হয়। বিষয়টি তখনকার মতো থেমে যায়।

এখন চলচ্চিত্রের অশ্লীলতা বন্ধ হলেও ওয়েবসিরিজের ভিউয়ার্স বাড়ানোর নাম করে নতুনভাবে অশ্লীলতাকে টেনে আনা হয়েছে। যে সব আপত্তিকার দৃশ্য টিভিতে দেখানো সম্ভব নয় তাই দেখানো হচ্ছে ওয়েবসিরিজে।

ওয়েবসিরিজ মানে – এটা নয় নাটক, নয় চলচ্চিত্র। দুয়ে মিলেই নির্মিত হয় ওয়েবসিরিজ। সেন্সর না থাকায় ওয়েবসিরিজে গল্প যেমন-তেমন, অশালীন দৃশ্য, নোংরা সংলাপ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিশেষ করে ড্রয়িংরুম মাধ্যম টেলিভিশনের শিল্পীদের এমন অশালীন কাÐে বিব্রত এবং বিস্মিত নাটকের দর্শক। গত ২৭ মে অনলাইনে মুক্তি পেয়েছে শিহাব শাহীনের ক্রাইম থ্রিলার ‘আগস্ট-১৪’। তুশি নামের বখে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ের গল্প নিয়ে এই ওয়েবসিরিজের কাহিনী।

এখানে বলা হচ্ছে ২০১৩ সালের সেই চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের কথা। যেখানে মালিবাগের চামেলীবাগের এক ফ্ল্যাটে ঐশী নামের এক কিশোরী কফির সঙ্গে ঘুমের বড়ি খাইয়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। তুশি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা। এই সিরিজে তুশির বন্ধুদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, বাসায় একা নীল সিনেমা দেখার উত্তেজনাসহ নানা কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য রয়েছে। আদনান ফারুক হিল্লোল ও নাজিয়া হক অর্ষা অভিনীত ওয়েবসিরিজ ‘বুমেরাং’ মুক্তি পেয়েছে ঈদে। এই ওয়েবসিরিজে বেশ খোলামেলা দেখা গেছে অর্ষাকে। সুমন আনোয়ার পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘সদরঘাটের টাইগার’। এতে লাইলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহানা হামিদ। লাইলীর চরিত্রটি একজন পতিতার। এই ওয়েবসিরিজের অধিকাংশ সংলাপে অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

২০১৭ সালের আগষ্টে কুসুম সিকদারের একটি মিউজিক ভিডিওতে রগরগে দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করায় অশ্লীলতার অভিযোগ এনে পর্নোগ্রাফির মামলা হয়। এখন অনেকেই বলছেন কুসুম সিকদারের সেই ভিডিওর বিরুদ্ধে যদি পর্নোগ্রাফির মামলা হতে পারে। তাহলে এ রকম অশালীন দৃশ্য ও সংলাপের জন্য কেন নয়? অথচ সরকার যেখানে পর্নোগ্রাফি বন্ধে তৎপর।

আপনার মতামত লিখুন :