করোনাকালীন শুটিংয়ের জন্য পরীক্ষার মুখে চিত্রনাট্যকারেরা

0
166

ইমরুল শাহেদ : কোভিড-১৯ আতঙ্কে স্থবির থাকার প্রায় তিন মাস পর চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকের কিছু কিছু কাজ শুরু হয়েছে। শিল্পী-কুশলীদের একাংশ ইতোমধ্যেই কাজে ফিরেছেন। কিন্তু তাদের মনের মধ্যে কাজে ফেরার আগের আনন্দ আর নেই। তাদের কাছে কাজে ফিরে যাওয়া যেমন জরুরি তেমনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তাদেরকে ভাবতে হচ্ছে। সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা শিল্পীদের জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা। করোনা কালীন নাটকের শরীর নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছেন চিত্রনাট্যকারেরা। তাদের চিত্রনাট্যে চরিত্রগুলোকে কিভাবে উপস্থাপন করবেন। দৃশ্যধারণের কোরিওগ্রাফিই বা কেমন হবে? ধরা যাক, হিসাব অনুসারে ড্রয়িংরুমে একসঙ্গে ছয়টির বেশি চরিত্র থাকতে পারবে না। একটি চরিত্র সামনে এগিয়ে এলে অন্যটি পেছনে সরে যাবে। পুরোটাই যুক্তিযুক্তভাবে কোরিয়োগ্রাফি করতে হবে।

এছাড়া আগের মতো বøকে শুট হবে। তাই সেইমতো দৃশ্য লেখা। ভারতের ধারাবাহিকগুলোতে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য লিখতে গেলে মুডটা বোঝানোর জন্য লিখে দেওয়া হচ্ছে, ‘হাতে হাত ধরে কথা বলছে দু’টি চরিত্র।’ চিত্রনাট্যকারদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির কথা মনে রেখেই লিখতে হবে। কিন্তু কলকাতার কিছু ধারাবাহিকে সামাজিক দূরত্ব মেনে শুটিং করলেও, ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে আসছে কাছাকাছি আসার দৃশ্য। নায়ক-নায়িকার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যও আসছে। এর সবটাই করা হচ্ছে দর্শকের কথা মাথায় রেখে। অতীতে দেখা গেছে, দু’জন শিল্পীর দৃশ্য। কিন্তু দু’জনের ডেট ম্যাচ করল না। এক জনের দৃশ্য আগে তুলে নিয়ে পরের জনেরটা অন্যদিনে তুলে দু’টিকে মিলিয়ে দেওয়ার ঘটনা তো আগেও ঘটেছে। এখন প্রযুক্তির আশ্রয়ে শিল্পীদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।

একজন শিল্পী বলেছেন, ‘শুটিং শুরু হলে মেকআপ আর্টিস্টরা মেকআপ করবেন। টেকনিশিয়ান কলাকুশলী মিলিয়ে বেশ একটা বড় টিম। দূরত্ব বজায় রাখার গাইডলাইন মেনে হয়তো শর্ট ফিল্ম বা কিছু সিরিজ শুট করা যেতে পারে, কিন্তু ফুল ফ্লেজেড ছবি বানানো যাবে বলে মনে হয় না।’ কিন্তু একদিন করোনা, লকডাউন উঠবে। শুটিংও শুরু হবে ঠিক। কিন্তু অন্তরঙ্গ দৃশ্য, নায়ক-নায়িকার মাখামাখি প্রেম, বেড সিন? করোনার চিন্তা মাথায় নিয়ে সে সব দৃশ্যে অভিনয় করতে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন শিল্পীরা?

আপনার মতামত লিখুন :