“বাবা আমার বট বৃক্ষ” মো.আনিসুর রহমান সোহান

0
581

“বাবা আমার বট বৃক্ষ” ছোটবেলায় বাবা শব্দটি একটি আতংকের নাম হলেও বড় হওয়ার সাথে সাথে বুঝতে পারলাম বাবা মানে হলো আস্থার প্রতীক। জন্মের আগে মা যেমন আমাদের দশ মাস দশ দিন পেটে ধরেছিলেন, তেমনি আমরা যেন পৃথিবীর আলো সুস্থভাবে দেখতে পারি তা নিশ্চিত করেছেন আমাদের বাবা।

ছোটবেলায় আমাদের হাত ধরে যিনি আমাদের হাঁটা শিখিয়েছিলেন তিনি আমাদের বাবা। যদিও বয়স বাড়ার সাথে সাথে দৌড়াতে শিখার পর পিছনে ফিরে কখনো বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়নি। বরং অতিরিক্ত দুরন্তপনার জন্য যখন তিনি রাগ হতেন তখন মনে হতো পৃথিবীতে উনিই বোধহয় সবচেয়ে খারাপ মানুষ। তখন তো বুঝিনি যে এই খারাপ মানুষটি’ই আমাদের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি আমাদের কাছে খারাপ হয়েছিলেন যাতে আমরা ভালোভাবে চলতে শিখি। ছোটবেলায় পড়ালেখার জন্য বাবার হাতে মার খেতে খেতে যখন চিন্তা করতাম নিজের বাচ্চার উপর এতটা নির্দয় মানুষ কেমনে হতে পারে?

তখন হয়তো খেয়াল করিনি, তবে আমি নিশ্চিত; মারখেয়ে যখন কান্নাকাটি করে ঘুমিয়ে যেতাম তখন নিঃশব্দে বাবা নিশ্চয় আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। আমাদের জন্ম দিয়েছেন আমাদের মা, কিন্তু যে মানুষটি আমাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষাসহ ভালোভাবে বড় হয়ে উঠার পরিবেশ দিয়েছেন তিনি আমাদের বাবা। বাবা আছেন বলেই হয়ত আমাদেরকে এখনো অনেক কিছুই চিন্তা করেতে হয় না। আমাদের বাবা আমাদের কাছে অনেক কনজারভেটিভ স্বভাবের একজন মানুষ।

আমি অন্য সবার বাবার মতো কখনো আমাদের বাবাকে আমাদের সাথে প্রাণ খুলে হাসতে দেখিনি। কখনো বাবার হাত ধরে কোথাও তেমন একটা ঘুরতে যাওয়া হয়নি সামাজিক অনুষ্ঠান ও অসুখ হলে ডাক্তার-এর কাছে নিয়ে যাওয়া ছাড়া। কখনো বাবার পাশে বসে সেভাবে গল্পও করা হয়নি। কখনো প্রাণ খুলে নিজেদের মনের সব কথা আমরা বাবাকে বলতে পারিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে এসব ক্ষেত্রে দূরত্ব একটু বেশিই ছিল।

তারপরেও আমরা আমাদের বাবাকে অনেক ভালোবাসি, হয়তো নিজের থেকেও বেশি। অথচ এই কথাটি বাবাকে কখনো বলা হয়নি। জানি সারা জীবনেও হয়তো কখনো বলা হবে না। হয়তো বলতে পারবো না। ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে আমাদের মতের অনেক অমিল রয়েছে। কলেজে পড়ার সময় যখন বাবার সাথে আমাদের মতের অমিল হতো তখন মনে হতো আমাদের বাবার মতো বাবা হয়তো আর কারো নেই। হয়তো এই পৃথিবীতে’ই নেই।

সময় বদলে গেছে। সময়ের স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে বদলিয়ে গেছি আমরাও, বদলে গেছে বাবাও। এখন আর আমাদের সাথে বাবার কিংবা বাবার সাথে আমাদের মতের তেমন একটা অমিল হয়না। অনেকটা’ই শিখে গেছি বাবার মতের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে। এতেই বাবা খুশি আর তাঁর খুশিতে আমরাও খুশি। বাবা! শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়। বাবা এমনি এক শব্দ যার মধ্যে বিশালতার ছোঁয়া পাওয়া যায়। পাওয়া যায় নির্ভরতার আলিঙ্গন।

বাবা মানে আশ্রয়। বাবা মানে একটি বট বৃক্ষ। বাবা মানে এক টুকরো ছাদ। মাথার ওপর বিশাল আকাশ। রোদ কিংবা বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে মাথার উপর যে কেউই ছাতা হতে পারে। কিন্তু বট বৃক্ষের মত শীতল ছায়া যে কেউ দিতে পারে না। বট বৃক্ষ হয়ে মাথার উপর যিনি থাকেন তিনি হলেন বাবা। যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ বুঝা যায় না তার মর্ম!

মাথার উপর থেকে ছায়া সরে গেলেই টের পাওয়া যায়, কঠিন এই জীবনটা কেউ একজন অনেক সহজ করে দিয়েছিল। বাবা হলো সেই অদৃশ্য দেয়াল যিনি না থাকলে হয়তো অনেক আগেই আমরা ভেঙ্গে গুঁড়ো হয়ে রাস্তায় মিশে যেতাম….

সময়ের ব্যবধানে আজ আমরাও বাবা, আর তা থেকেই এই উপলব্ধি “বাবা তোমায় ভালোবাসি অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি”

 -ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রহমানিয়া ফ্যামিলি।
আপনার মতামত লিখুন :