শ্রম ভবনে শ্রমিকের লাগাতার অবস্থান: মালিকদের গ্রেফতারের দাবি

0
182

নারায়ণগঞ্জের প্যারাডাইস ক্যাবল কারখানার শ্রমিকরা ১৩ মাসের বকেয়া মজুরির দাবিতে চতুর্থ দিনের মত ২৪ জুন শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। বেলা ১১টায় শ্রমিকরা শ্রম ভবন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। শ্রম ভবনে শ্রমিকের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে আজও বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গ সংহতি জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্যারাডাইস ক্যাবল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শ্রমিকনেতা দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা ইকবাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম গোলক, কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, শ্রমিক নিলুফার ইয়াসমিন, আব্দুল কাইউম, ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ ডালিম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা প্রতারক মালিকদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। তারা বলেন, সংকটের সুরাহায় সরকারি কোন সংস্থা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অগ্রগতির কথা বলছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শ্রম ভবনের বারান্দায় শ্রমিকদের এই দিন রাত মানবেতর অবস্থান সত্ত্বেও তারা নির্বিকার। বক্তারা সংকট সমাধানে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন শ্রমিকের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, এম এ শাহীন, মঞ্জুর মঈন, শ্রমিকদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল, পরিবহন শ্রমিকনেতা হযরত আলী, সিপিবি শান্তিনগর শাখার সহ-সম্পাদক ফারহান হাবীব, ছাত্রনেতা মেঘমল্লার বসু, ড্রাগন সোয়েটার কারখানার শ্রমিক আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।

অবস্থানে শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ বলেন, শ্রমিক পরিবারগুলো ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে আর কোন ভাবেই জীবন ধারণে সক্ষম হচ্ছে না। এই মূহুর্তে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধে মালিকপক্ষকে কোন ভাবে বাধ্য করা না হলে তাদের জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে যাবে। শ্রমিকরা অসহায় এবং সর্বত্র প্রত্যাখ্যাত হয়ে শ্রম ভবনের বারান্দায় বসেছে। ১৩ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং কারখানার উৎপাদন চালুর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ব্যক্তি ও পরিবার আন্দোলনরত শ্রমিকদের জন্য চাল, ডাল, তেল, আলুসহ খাদ্য সহায়তা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন তাদের প্রস্তুতকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজার শ্রমিকদের হাতে তুলে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন :