আলোর সন্ধানে ঐতিহ্যবাহী কবীর লাইব্রেরীর ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ৭ জুলাই

0
100

স্টাফ রিপোর্টার ঃ মঙ্গলবার ৭ জুলাই ঐতিহ্যবাহী কবীর লাইব্রোরীর ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। অন্তহীন জ্ঞানের আঁধার হল বই, আর বইয়ের আবাসস্থল হলো গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি। মানুষের হাজার বছরের লিখিত-অলিখিত সব ইতিহাস ঘুমিয়ে আছে একেকটি গ্রন্থাগারের ছোট ছোট তাকে। গ্রন্থাগার হলো কালের খেয়াঘাট, যেখান থেকে মানুষ সময়ের পাতায় ভ্রমণ করে। প্রাচীন শিলালিপি থেকে আধুনিক লিপির গ্রন্থিক স্থান হল লাইব্রেরি। একটি গ্রন্থাগার মানব জীবনকে যেমন পাল্টে দেয় তেমনি আত্মার খোরাকও যোগায়। তাই গ্রন্থাগারকে বলা হয় শ্রেষ্ঠ আত্মীয় যার সাথে সবসময় ভালো সম্পর্ক থাকে। আর জ্ঞানচর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনন্য। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিবি মরিয়ম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় মোকরবা রোডে ১৯৯১ সালের ৭ জুলাই কবি ও সৃজনশীল সু-সাহিত্যিক মোঃ হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠা করে মেসার্স কবীর লাইব্রেরী।

সততা নিষ্ঠা সবার ভালোবাসায় কবি নজরুল গবেষক হুমায়ুন কবির অজ¯্র ছিন্দ্রযুক্ত টিনের চাল বেষ্টিত দোকান ঘরটি ৫০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে আজকে তার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দালান কোঠায় পরিণত হয় কবীর লাইব্রেরী। এই লাইব্রেরীতেই ২৫ বছর ধরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের পদচারনায় মুখরিত হয়। সেই সাথে দেশ বরেন্য কবি-সাহিত্যিকদের স্মৃতি বিজরিত লাইব্রেরীতে আড্ডা দিয়েছেন প্রফেসর ড. করুনাময় গোস্বামী, ড. সৈকত আসগর, কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, প্রফেসর ড. শিরিন বেগম, অধ্যাপিকা রাশিদা বেগম, নজরুল গবেষক অনুপম হায়াত, কবি শাওন আসগর, কবি মহিউদ্দিন আকবর, সমাজ সংস্কারক ডা. নান্টু বড়–য়া, কবি শাহজাহান আবকদালি, লাভ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক নাফিস আশরাফ, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, ছড়াকার সাব্বির আহমেদ সেন্টু, বাউল স¤্রাট কুদ্দুস বয়াতি, শ্রেষ্ঠ সংগঠক এম এ মান্নান ভূঁইয়া, শিল্পী ইব্রাহীম মিয়া, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ টিটু ও সমাজকর্মী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

কবীর লাইব্রেরী এন্ড ষ্টেশনারীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক কবি হুমায়ুক কবির বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতার সমিতির পরিচালক পদে ও নারায়ণগঞ্জ পুস্তাক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ১৭ বছর এবং ১০ বছর ধরে সহ-সভাপতি ও ১ বছর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সাথে জাতীয় লেখক কল্যাণ পরিষদের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছে। আলোর সন্ধানে দুরন্ত অভিযানে তল্লা, কিল্লারপুল, নগর খানপুর এলাকায় পাঠক সৃষ্টিতে কবীর লাইব্রেরী যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ৩০ বছর ধরে অনেক গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের বই, খাতা, কলম, কাগজ দিয়ে সহায়তা করেছেন এবং সকলের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় এগিয়ে চলেছেন কবীর লাইব্রেরী। ছাত্র-ছাত্রীদের আশা আকাঙ্খা ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটিয়েছে কবীর লাইব্রেরী। ৩০তম জন্ম দিনে পাঠক ও শুভান্যুধায়ীদের সৃজনশীলতায় শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোঃ হুমায়ুন কবীর।

আপনার মতামত লিখুন :