অমুসলিমদের মদ্যপানের অনুমতি, মেয়েদের খতনা প্রথা বাতিল করল সুদান

0
33

৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চালু থাকা ইসলামি শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদান। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে অমুসলিমদের মদ্যপানের অনুমতি এবং স্বধর্ম ত্যাগের আইন ও অপরাধের শাস্তি হিসেবে জনসম্মুখে বেত্রাঘাতের সাজা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

দেশটির আইন ও বিচারবিষয়ক মন্ত্রী নাসরিদিন আব্দুল বারি বলেছেন, আমরা সুদানের সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আইন বাতিল করবো। গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে বেশ কয়েকটি আইন পাস হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো দেশটির সরকার এসব আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বিবিসি বলছে, উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে মেয়েদের খতনা করানোর প্রথাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, সন্তানদের সঙ্গে নারীদের ভ্রমণের সময় কোনও পুরুষ স্বজনের অনুমতির দরকার নেই। বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখে গত বছর দীর্ঘ মেয়াদে প্রেসিডেন্টের আসনে থাকা দেশটির শাসক ওমর আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হন। তার এই ক্ষমতাচ্যুতির পর ইসলামি শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলো।

নতুন মাদক আইনে যা বলা হয়েছে

আব্দুল বারি দেশটির সরকারি টেলিভিশনে বলেন, অমুসলিম নাগরিকরা এখন থেকে ব্যক্তিগতভাবে মদ্যপান করতে পারবেন। তবে মুসলিমদের মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি রয়েছে। মুসলিমদের সঙ্গে কোনও অমুসলিম মদ্যপান করলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে এক প্রতিবেদনে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম সুদান ট্রিবিউন।

আইনি সংস্কারের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সুদানের সরকার দেশটির ৩ শতাংশ অমুসলিম নাগরিকের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করছে। তারা এখন থেকে মদ্যপান, আমদানি এবং বিক্রির অনুমতি পাবেন।

সুদানের এই মন্ত্রী বলেন, আমরা যেকোনও ধরনের বৈষম্য বাতিল এবং নাগরিকদের সমানাধিকার ও দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে আগ্রহী। দেশের পূর্ববর্তী শাসকগোষ্ঠী এ ধরনের বৈষম্য তৈরি করেছিল।

চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে প্রথমবারের মতো সুদানে বেশ কিছু আইনের সংস্কারে অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানী খার্তুম থেকে বিবিসির প্রতিনিধি মোহাম্মদ ওসমান বলেন, ওই আইনগুলো এখন কার্যকর করা হয়েছে।

অন্যান্য আইনের খবর

দেশটিতে এখন পর্যন্ত যে আইন কার্যকর রয়েছে, তাতে কোনও ব্যক্তি ইসলাম অথবা অন্য ধর্ম ত্যাগের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের সাজার মুখোমুখি হতে হবে।

২০১৪ সালে দেশটিতে মেরিয়াম ইয়াহিয়া ইশাগ নামের গর্ভবতী এক নারী খিস্ট্রান ধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তিকে বিয়ের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত হন। পরে ওই নারী দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে দেশটিতে এখনও ইসলাম ধর্ম ত্যাগের সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বলবৎ রয়েছে।

সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর-আল-বশিরের নেতৃত্বাধীন নৈতিক পুলিশ দেশটিতে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাজা হিসেবে অভিযুক্তদের জনসম্মুখে বেত্রাঘাত কার্যকর করতো। কিন্তু দেশটির আইন ও বিচারবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল বারি বলেছেন, এই সাজা বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :