নেতিবাচক প্রতিবেদন আসা অনলাইন পোর্টাল প্রয়োজনে বন্ধ : তথ্যমন্ত্রী

0
51

নেতিবাচক (নেগেটিভ) তদন্ত প্রতিবেদন আসা অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো প্রয়োজনে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি অনলাইনগুলোর ব্যাপারে… একটি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০’র মতো তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। আরেকটি সংস্থা থেকে একশোর মতো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ মাসের মধ্যে আরও দেড়শ কিংবা এর চেয়ে বেশি তদন্ত প্রতিবেদন পাব। সেই তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমরা এ মাসেই রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করব।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব অনলাইনের ব্যাপারে নেগেটিভ প্রতিবেদন এসেছে সেগুলো আরেকটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা সেগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব, প্রয়োজনে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেসব অনলাইন গুজব ছড়ায় সেগুলো মোটামুটিভাবে অনেকগুলো আইডেন্টিফাইড (চিহ্নিত)। তারা আবার ক্ষণে ক্ষণে পরিচয় পরিবর্তন করে। অনেক সময় বিদেশ থেকেও অনেকে এগুলো পরিচালনা করেন। সেগুলোর ব্যাপারে প্রযুক্তিগত কিছু পদক্ষেপ মাঝে মাঝে নেয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে আরও দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং ভবিষ্যতে যে অনলাইনের মাধ্যমে গুজব ছড়াবে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার পর থেকে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইনগুলোর ব্যাপারে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছিল। সেগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন আসছে বা আসবে। কিন্তু ভবিষ্যতেও তো অনলাইন হবে। ভবিষ্যতে অনলাইন পোর্টাল চালু করতে হলে আবেদন করতে হবে, সেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত হওয়ার পর চালু করতে হবে। যে কেউ একটা খুলে ল্যাপটপ নিয়ে বসে দুই-তিনজন নিয়ে বসে একটা অনলাইন খুলে বসবে, এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আগামীতে আবেদনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাড়পত্র দিলে তারা ডোমেইন বরাদ্দ পাবে।’

সাহেদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাহেদের দুর্নীতি সরকারই উদঘাটন করেছে। শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাহেদকে গ্রেফতার করেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি যে ক্রমাগত অবান্তর কথা বলে সেটার ধারাবাহিকতায় সাহেদ নিয়েও তারা নানা অবান্তর কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টরারেন্স।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাহেদের মদদদাতাকে যদি ধরতে হয় তাহলে হাওয়া ভবন থেকে যারা মদদ দিয়েছিল এবং স্কাইপেতে যখন তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে সেই বিষয়ে বিএনপি কী বলবে? অবশ্যই সাহেদের অপকর্মের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত থাকেন, তদন্তে যদি সেটি বেরিয়ে আসে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যের ডিজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিক্ষোভ গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার একটি অংশ, বিক্ষোভ যে কারো বিরুদ্ধে হতে পারে, যে কেউ তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে। এটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতিরই অংশ।’

করোনা চিকিৎসায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি করা অনেক হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত আমি মনে করি স্বাস্থ্য অধিদফতর যখন বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের তখন আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিল প্রথম থেকেই। সেখানে কিছু ঘাটতি ছিল বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। সেখানে যদি সতর্কতা অবলম্বন করা হতো তাহলে সাহেদের রিজেন্ট ও জেকেজির মতো প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পেত না।’

দেশে করোনায় মৃত্যুহার ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে কম জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতর যদি আরও সতর্ক হতো, এই বিষয়গুলো যদি না থাকত তবে এক্ষেত্রে আমাদের সফলতা আরও বেশি হতে পারত।’

আপনার মতামত লিখুন :