জুমআর দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষ মর্যাদা

0
64

মুসলিম উম্মাহর কাছে অনেক মর্যাদাপূর্ণ দিন ‘ইয়াওমুল জুমআ’। কুরআন ও হাদিসে জুমআ’র দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও বেশকিছু বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমুআর দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহ তাআলার কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)

– বিশ্বনবি আরও বলেছেন, ‘যে সব দিনগুলোতে সূর্য উঠে; তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমআর দিন। সেই দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেই দিনেই জান্নাত থেকে তাকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম)

– হজরত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি যখন এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا
তখন তার কাছে একজন ইয়াহুদি ছিল। সে বলল, যদি আয়াতটি আমাদের ওপর নাজিল হতো তাহলে আমরা দিনটিকে ঈদের দিন বানিয়ে নিতাম। অতপর ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আয়াতটি ঈদের দিনেই নাজিল হয়েছে (আর তা ছিল) জুমআ’র দিন ও ‘আরাফার দিন।’ (তিরমিজি)

গোনাহ মাফের দিন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এক জুমআ থেকে অপর জুমআ- এতদুভয়ের মাঝে (গোনাহের জন্য) কাফ্‌ফারা হয়ে যায়, যদি কবিরাহ (বড়) গোনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে।’ (মুসলিম)

নামাজ ও রোজা পালনের সাওয়াব অর্জনের দিন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে এবং ইমামের কাছাকাছি হবে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে ও চুপ থাকবে তার জুমআর নামাজে আসার প্রত্যেক কদমে এক বছরের নামাজ ও রোজা পালনের সাওয়াব অর্জিত হবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ)

দোয়া কবুলের দিন
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, নিশ্চয় জুমআর দিনে এমন একটি সময় আছে যে সময়ে কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো ভালো জিনিসের প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, তা সামান্য সময় মাত্র।’ (বুখারি ও মুসলিম); কেউ কেউ বলেন, এটি আসরের নামাজের পরের সময়।

উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য বিশেষ দিন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জুমআ থেকে আল্লাহ আমাদের আগের উম্মতকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন। ফলে ইয়াহুদিদের জন্য ছিল রোববার। অতপর আল্লাহ আমাদেরকে নিয়ে এসেছেন এবং আমাদেরকে জুমআর দিনের জন্য পথ দেখিয়েছেন অতপর শনি তারপর রবি। এমনিভাবে কেয়ামতের দিনও তারা আমাদের পরে হবে। দুনিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে আমরা সবার পরে এবং কেয়ামতের দিন আমাদের ফয়সালা সাবার আগে হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

কেয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিনেই কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।’ (মুসলিম)

ফেতনা থেকে মুক্তির দিন
বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কোনো মুসলিম যদি জুমআর দিন অথবা জুমআর রাতে মৃত্যুবরণ করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করবেন।’ (তিরমিজি)

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য জুমআর দিনের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যেমন, তেমনি জুমআর নামাজও মুমিন মুসলমানের জন্য বিশেষ মর্যাদা লাভের নামাজ। তাই কোনোভাবেই এ নামাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। এ দিনের আমল ও ইবাদতগুলো যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দিনের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার এবং বিশেষ মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :