কাঁচপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডিসি-এসপি অফিসে অভিযোগ

0
82

সোনারগাঁও থেকে আব্দুল হালিম নিশাণ: সোনারগাঁও কাঁচপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকবাল-জিয়া-বাবুল গং ও থানার (ওসি) মো: মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনী প্রসঙ্গে না.গঞ্জ জেলার ডিসি-এসপি অফিসে অভিযোগ প্রদান করেন মহিলা মেম্বার জোহুরা আক্তার শান্তা। জানাগেছে, গত (২২ জুলাই) দুপুর ১২ ঘটিকার সময়, কাঁচুপর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মোসা: জোহুরা আক্তার শান্তা স্বয়ং নিজে কার্যলয় গিয়ে ওই সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদান করে থাকেন। অভিযোগ প্রদান কালে ডিসি ও এসপি সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুনে তারা সরেজমিন তদান্ত সাপেক্ষে অচিরেই আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
জানাগেছে, কাঁচপুর এলাকার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অপরাধী একাধিক মামলার আসামী ও এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাস ইকবাল-জিয়া-বাবুল চক্রটি (ওসির) দীর্ঘদিনের ছত্র-ছায়ায় রয়েছেন। ওই সকল মূল হোতারা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে ঠান্ডা মাথায়,সাধারন লোকজন ও মহাসড়কের পরিবহণ সেক্টরকে জিম্মি করে রেঁখেছেন। এধরনের দুর্নীতি বাণিজ্য’র পত্র-পত্রিকায় মূখশ উম্মোচনে থানার (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান হতাশ হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগীতা নেওয়ার পরিকল্পনা খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এখন ওসির দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশ প্রকল্পে নেওয়ার জন্য।
দীর্ঘদিন (ওসি) গাঢাকা দিয়ে সাধারন মানুষকে বিপদে ফেঁলে কোটি কোটি টাকার অর্থ বনে গেছেন। এতোদিন নিশ্চুপ থেকে ইকবাল-জিয়া-বাবুল গং সন্ত্রাসী বাহিনীদের দিয়ে, এলাকায় বাড়ি-ঘর দখল, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপ-কর্ম করে তাঁদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওসি। এবিষয়ে এলাকার সাধারন জনগণ জানতে চায় এতো ক্ষমতার উৎস কোথায় পেলেন তিনি। ওই চক্রটি এলাকায় প্রতিদিন চুরি-ডাকাতি অনবরত দিনের পর-দিন রাঁতের পর-রাঁত চালিয়ে যাচ্ছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে থানার ওসি কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা ও মামলা নিচ্ছেনা বলে একাধিক অভিযোগ সূত্রমতে জানাগেছে। দীর্ঘদিনের কাঁচপুরের ওই লালিত-পোষা বাহিনী এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে যাচ্ছেন একের পর এক। এবিয়ষটি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক ভাবে অবহিত করলেও, কোন প্রকার আমলে নিচ্ছেননা নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
জানাগেছে, (ওসি) মনিরুজ্জামান যোগদান করার পরপরই কাঁচপুরের অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ অর্থের লেন-দেন করে, এলাকায় ত্রাসের আধিপত্য সৃষ্টি করেছেন। এধরনের সন্ত্রাসীরা কিছু সংখ্যাক জনপ্রতিনিধি ও নামধারী আওয়ামী পন্থিদের কড়া নজরধারীতে রয়েছেন বলে ব্যাপক ভাবে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ইকবাল (৩৫) পিতা হারুন আর রশিদ, জিয়াউর রহমান(৩৫) পিতা ফজলুল হক, বাবুল(৪০) পিতা নুরু মিয়া, হেলাল উদ্দিন(৪৫) পিতা মৃত ওয়াহিদ আলী, সাগর(৩০) পিতা অজ্ঞাত গংরা, সর্বসাং কাঁচপুর সোনাপুর, থানা সোনারগাঁও, জেলা নারায়ণগঞ্জ। গভির রাঁতের আধাঁরে স্থানীয় এলাকায় বাড়ি-ঘর চুরি-ডাকাতি ও পরিবহণ চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত রয়েছেন তারা। ওই অভিযুক্তদের নির্মম অত্যাচারে এলাকার সাধারন মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। এদের অতিষ্টতায় এলাকায় কারো কাছে বিচার বিশ্লেণের জন্য গেলেও, কোন প্রকার বিচারের সুযোগ মিলে না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বর্তমান কাঁচপুর এলকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় রয়েছেন- এক সময়ের ক্রোস ফায়ারের ৩০/৪০টি বিভিন্ন অপরাধী মামলার আসামি ইকবাল ও বিভিন্ন প্রকার অপরাধে-অপরাধি ১০/১২টি মামলার আসামি “জিয়া ওরফে ফরমা জিয়া”। তিনি এখন সিলেট রোডে পাঁচটি বাস কাউন্টার থেকে প্রতিদিন ৫’শ টাকা আদায়, অবৈধ ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায়, জুয়ার আসর, মাদক ব্যবসা এবং ভালো মানুষকে বিপদে ফেঁলে পুলিশকে দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন তিনি। এবং বাবুল ২৩০২ ভুয়া একটি সংগঠনের ব্যানার পরিচয়ে ১’শ-৭’শ টাকা প্রতিটি পরিবহণ থেকে চাঁদা আদায় করেন সিলেট রোডে। প্রকাশ্য তিনি জনসম্মূখে বলেন, থানার ওসিকে প্রতিমাসে ১-দেড় লক্ষ্য টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়। বরং তিনিও ৪/৫ মামলার আসামি বনে গেছেন। এবং হেলাল নামের বিভিন্ন অপরাধে ৭/৮ মামলার আসামি। তারা আরও অজ্ঞাতনামা কিছু সংখ্যাক পরিচয়দানকারী সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে ওই চক্রটি ব্যাপক ভাবে সক্রিয় হয়ে পরেন। ইতিপূর্বে, এধরনের তথ্যে সূত্র পেঁয়ে র‌্যাব-১১’র একটি সক্রিয় টিম ভুয়া নামধারী সাংবাদিক ও স্থানীয় ওই সকল চাঁদাবাজদের চাঁদা আদায় কালে ধাওয়া করেন তারা। এবিষয়ে র‌্যাবের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে জানাগেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকার তানবীর হোসেন, রব মিয়া, বাচ্চু মিয়া, মনিরসহ ১০/১২ জনে জানান, গত (১৩ জুলাই) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় নীরহ সাধারন পরিবহণ খেঁটে খাওয়া ব্যবসায়ী- জুলহাস জনি (২৪) পিতা একলাছ মিয়া, সাং দাউদপুর, থানা তারাইল, জেলা কিশোরগঞ্জ, বাপ্পি মিয়া(২৩) পিতা সেলিম মিয়া, সাং বেড়িরচর পশ্চিম বাজার, থানা ও জেলা মৌলভীবাজার ও জিয়াউর রহমান(২৮) পিতা আব্দুর রব মিয়া, পশ্চিম বেহাকৈর, থানা সোনারগাঁও, জেলা নারায়ণগঞ্জ। যাহার সোনারগাঁ থানায় কেইস নং ১৬ ধারা ৩৮৫/৩৮৬ মোতাবেক মিথ্যা মামলা দিয়ে থানার ওসি ও এসআই বোরহান দর্জি হয়রানি করেন। উল্লেখিত মামলার জনি ও বাপ্পিকে ঘটনাস্থলেই গ্রেফতার করেন থানা পুলিশের এসআই বোরহান। বাকী ৩ নং আসামীকে পালাতক বলে উক্ত মামলায় বিশ্লেষণ করেন। এধরনের গ্রেফতারের পিছনে ওই চক্রটি একাত্রি ভাবে পুলিশের গোপন যোগসাজসে সঙ্গবদ্ধ হয়ে পুলিশকে অবৈধ অর্থের লেন-দেনে যুক্ত করে ফাঁদে ফেলেন তারা।
এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে সরেজমিন সূত্রে দেখাগেছে, ওই সকল চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে এখন আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। এবং অভিযোগদাতা জোহুরার কাঁচপুর সিলেট রোডস্থ বাসষ্ট্যান্ডে দীর্ঘদিনের পরিবহণ বাস কাউন্টার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা তার কর্মচারীদেরকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি প্রদান করে থাকেন। এবং বাবুল-জিয়া-ইকবাল চক্রটি এলাকায় আরো ত্রাসে পরিনত হয়েছেন।
এ বিষয়ে কাঁচপুর ইউনিয়ন সংরক্ষিত ৪,৫ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার জহুরা আক্তার শান্তা সাংবাদিকদের জানান, আমি গত (২২ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও ডিসি মহোদয়ের কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে। ইকবাল-জিয়া-বাবুল গং ও সোনারগাঁ থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনী প্রসঙ্গে লিখিত অভিযোগ প্রদান করি। তারা ঘটনাটি শুনে সুষ্ঠ তদান্তের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান। কারণ আমি এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন বিশিষ্ট জনপ্রতিনিধি হয়েও, স্থানীয় সোনারগাঁ থানার (ওসি) মনিরুজ্জামান ও এসআই বোরহান তাঁদের পালিত ফর্মা জিয়া, বাবুল ও সন্ত্রাসী ইকবাল চক্রটির কথা মতো আমার পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। কারণ এদেরকে যতক্ষন পর্যন্ত গ্রেফতার না করবে , ততক্ষন পর্যন্ত আমি আইনের পিছনে ছুটে থাকবো বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, গত(১৩ জুলাই) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় আমার সিলেট রোডস্থ পরিবহণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জনি ও বাপ্পি নামে দুই কর্মচারীকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেন। এমনকি এ চাঁদাবাজি মামলায় আমার পরিবারের নিজের ছোট ভাই জিয়াউর রহমানকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেন।
আরও বলেন, থানার এসআই বোরহান যখন নিজে বাদী হয়ে গ্রেফতার করেন, তখন আমি স্বয়ং ওসিকে অনেক রিকোয়েষ্ট করি আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি তাঁর পালিত অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের কথা মতো আমাকে ব্যাপক ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন। জহুরা বলেন, এখন আমি সত্য’র পক্ষে লড়াই করাতে, ওসির মুঠফোন থেকে ফোন করে বলেন যে, আমি বুঝতে পারি নাই,আমার ভূল হয়েছে । আমাকে যদি আপনি একবার বলতেন তাহলে মামলা নিতাম না। কিন্তু আপনি একবারও বলেননি আমাকে। সমস্যা নেই এখন চার্জশিটে আপনার ভাইয়ের নাম বাতিল করে দিবো, দয়া করে আপিন একবার আমার থানায় দেখা করুন। এবং ওসি-এমপির দারস্ত হওয়াতে স্থানীয়(এমপি ) লিয়াকত হোসেন খোকা , তিনি তার ব্যক্তিগত ‘পিএসকে’ দিয়ে ফোন করে ওসির বিষয়টি দেখার জন্য। তাই অবিলম্বে আমি ওই সক্রিয় চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবি যানাচ্ছি, অন্যথায় আইনের প্রেক্ষিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
মামলার বাদী এসআই মো: বোরহান দর্জি বলেন, আমি মিথ্যা মামলা গ্রহণ করিনি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেঁয়েছি , তাই গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছি। এধরনের চাঁদাবাজির সাথে যেই যুক্ত থাকবে, তাঁদেরকে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জানার চেষ্টা করলে, তিনি সেবিষয়ে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হননি। তথাপি বিষয়টি ‘ওসির’ দোহাই দিয়ে থাকেন তিনি।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আমি এবিষয়ে কিছু করতে পারবোনা, বিষয়টি সোনারগাঁ থানার ওসি দেখবেন। উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ প্রদান করলেও কোন প্রকার আমলে নিচ্ছেন না এসপি। তারা বিষয়টি নাটকীয় ভাবে কথা বলে এগিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন জানান, আমার কাছে যত গুলো অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে, ততগুলো অভিযোগ পুলিশ সুপারকে পাঠিয়ে দিয়েছি। বিষয়টি আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু তারা কোন প্রকার আমার কথা শুনছেন না। আমি একাধিবার এসপিকে বলা শর্তেও , তিনি কোন প্রকার আমলে নিচ্ছেন না।

আপনার মতামত লিখুন :