বন্দরে ৯ মাস যাবৎ ১৪টি ডকইয়ার্ড বন্ধ, হাজারো শ্রমিক কর্মহীন

0
57

স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দীর্ঘ ৯ মাস যাবৎ ১৪টি ডকইয়ার্ড বন্ধ থাকার কারণে প্রায় ৫/৬ হাজার শ্রমিকের কাজ কর্ম বন্ধ রয়েছে। এতে করে বেকারত্ব বাড়ছে, অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের পরিবারও। অপর দিকে, বেকারত্ব দূর না হতেই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আরও অসহায় হয়ে পড়েছে ডকইয়ার্ড শ্রমিকরা। খেয়ে না খেয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার গুলো। এদিকে, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে বন্দরে ৫০টি ডকইয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি ডকইয়ার্ডে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। এবং বিদ্যুত সংযোগও কেটে দিয়েছে। এরই মধ্যে মাহমুদনগরে কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা বললেও রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ না করে পাশের ছোট ডকইয়ার্ড গুলো বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এরপর থেকেই ১৪টি ডকইয়ার্ড এখনও পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বন্দরে কর্ণফুলীসহ অন্যান্য রাঘব বোয়াল ডকইয়ার্ড গুলো এখনও চলছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ছোট ছোট ডকইয়ার্ড গুলো। উচ্ছেদ অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া ডকইয়ার্ড মালিকরা জানান, দীর্ঘ ৯ মাস যাবৎ বন্দর এলাকায় ১৪টি ডকইয়ার্ডের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। অথচ ৫০টির মতো ডকইয়ার্ড রয়েছে বন্দরে, যা একই সমস্যা রয়েছে। কিন্তু কেন আমাদের ডকইয়ার্ড গুলো বন্ধ করে দেওয়া হলো। বাকী ডকইয়ার্ড গুলো বন্ধ করা হলো না কেন?। এ বিষয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর ৫- আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান সহ জেলা প্রশাসক বরাবর বন্ধ থাকা ডকইয়ার্ড গুলো খুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডকইয়ার্ড মালিকরা জানান, বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে কয়েকবার বন্দর পল্লী বিদ্যুত অফিসে গিয়েছে কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। বরং তারা এসিল্যান্ড অফিস দেখিয়ে দেয়। এভাবে তাদের পিছনে ঘুরতে ঘুরতে দীর্ঘ ৯ মাস পার হয়ে গেলো আজও পর্যন্ত বিদ্যুত সংযোগের জন্য চালু করতে পারছি না। এছাড়াও দিনের পর দিন শ্রমিকদের পরিবার চালাতে হচ্ছে। বন্ধ থাকা ডকইয়ার্ড গুলোর মধ্যে রয়েছে- সাউদ ডকইয়ার্ড, শেফা ডকইয়ার্ড, খান ডকইয়ার্ড, আবুল ডকইয়ার্ড, সরদার ডকইয়ার্ড, শীতলক্ষ্যা ডকইয়ার্ড, ইসলাম ডকইয়ার্ড, নিউ ইসলাম ডকইয়ার্ড, স্বপন ডকইয়ার্ড, মাহমুদনগর ডকইয়ার্ড, জননী ডকইয়ার্ড, আল্লার দান ডকইয়ার্ড, মীম ডকইয়ার্ড সহ বেশ কয়েকটি ডকইয়ার্ড রয়েছে। এ বিষয় বন্দর পল্লী বিদ্যুত জোনাল অফিসের ডিজিএম শম মিজানুর রহমান জানান, সরকারি ভাবে আমাদের কাছে বন্দর এসিল্যান্ড (ভুমি) অফিস থেকে চিঠি এসেছে তাদের কাজে যেনো আমরা সহযোগীতা করি। এবং বিদ্যুত সংযোগ যেনো বিচ্ছিন্ন করে দেই। মুলতঃ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ডিসি অফিসে চিঠি দিয়েছে অবৈধ ডকইয়ার্ড গুলো উচ্ছেদ করার জন্য। সেই চিঠি ভূমি অফিস থেকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছে যেনো আমরা বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তাদেরকে সহযোগীতা করি। বেকার হয়ে পড়া ৫/৬ হাজার শ্রমিকের জীবন রক্ষার্থে বিদ্যুত লাইন পুনঃ সংযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এবং নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর ৫- আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান সহ জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি কামণা করছি।

আপনার মতামত লিখুন :