অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রণোদনা পেলেন শিক্ষকরা, হতাশ শিক্ষার্থীরা

0
50

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাকালীন চলমান অনলাইন ক্লাসের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ হিসেবে শিক্ষকরা প্রণোদনা পেলেও উপেক্ষিত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পৃথক দাবি থাকলেও শুধু শিক্ষকদের দাবি আমলে নেয়ায় ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের।গত বুধবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১৭তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করোনাকালীন অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে এককালীন ১০ হাজার টাকার সহায়তায় দেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের অনলাইন ক্লাসের যন্ত্রপাতি ক্রয়, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ ক্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগার থেকে বিনা সুদে ৫০ হাজার টাকার লোন দেয়া হবে। যা সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে সর্বোমোট ২৫ কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন শিক্ষকরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৩১ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারেনি। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসচ্ছলতা, প্রয়োজনীয় ডিভাইসের অভাব, দুর্বল নেটওয়ার্কসহ প্রভৃতি কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না।

অনলাইন ক্লাসের গুণগত মান নিশ্চিতসহ নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতা দূর করতে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি জানিয়ে এলেও তা আমলে নেয়নি প্রশাসন।

অন্যদিকে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও বাড়িতে বসে নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন শিক্ষকরা। অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে তাদের ক্যাম্পাসে আসতে হচ্ছে না। বাসায় থেকে ক্লাস নেয়ায় এতে করে তাদের খরচও অনেক কমে গেছে। এখন শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে শিক্ষকদের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ দেয়ার বিষয়টি হতাশাজনক।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, অনলাইল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় ডাটা প্যাকেজ ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় স্মার্ট ডিভাইস সরবরাহ করার দাবি করেছিল শিক্ষার্থীরা। এখন শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের সুস্পষ্ট ঘোষণা এলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দায়সারাভাবে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীকে মাসে মাসে সামান্য পরিমাণ ডাটা প্যাকেজ দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু যাদের প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই তাদের সহায়তার ব্যাপারে এখনও প্রশাসন কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি। প্রশাসনের এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি নিন্দনীয়।

একটি ফলদায়ী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে চাইলে শিক্ষকদের পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীকে যথাযথ পরিমাণ ডাটা প্যাকেজ ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ডিভাইস দিতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষকদের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ দিতে তাদের অনেকদিনের দাবি ছিল। এ বিষয়ে সরকারের মনোভাবও পজিটিভ। এ সময়ে শিক্ষকরা ক্লাসে যেতে পারছেন না। বাসায় থাকায় তাদের লজিস্টিক সাপোর্টের প্রয়োজন হচ্ছে।

তবে সিন্ডিকেটে শিক্ষকদের দাবি আমলে নিলেও শিক্ষার্থীদের দাবি আমলে না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকেই অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সমস্যা আমরা দেখছি। প্রথম দিকে তিন হাজার করে টাকা দিয়েছি, বন্যার্তদের সাহায্য করছি, ডাটা প্যাকেজ দিচ্ছি। কিন্তু অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তো এমন সহযোগিতাও করছে না। আর সবাইকে সহযোগিতা করা তো অনেক টাফ। স্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে থেকে ক্লাস করলে মাসে ১০-১২ টাকার মতো খরচ হতো। সেটাতো হচ্ছে না। চাইলে তারাও অন্যদের সহযোগিতা করতে পারে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন বা প্রয়োজনীয় ডিভাইস সাপোর্ট দেয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে কথা বলছে বলে তিনি জানান।সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আপনার মতামত লিখুন :