অভাব-অনটন মানুষকে মানুষ হতে শেখায় : শামীম ওসমান

0
89

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, করোনাকালে দেশে শিক্ষিত মানুষরা চুরি করছে। এটাই বাস্তব পরিস্থিতি। দেশের এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষিত লোকজন চুরি করে জাতির সাথে বেঈমানী করছে। আমি সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করছি এবং করে যাব। আমি একজন সংসদ সদস্য। আমার কাজ জনগণের জন্য কথা বলা। জনগণের হয়ে কথা বলবো। দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। ঘরে, বাইরে ও নেত্রীর সামনে যেখানে ন্যায্য কথা বলা প্রয়োজন বলবো। কারণ নেত্রী ন্যায্য ও সত্য কথা বলা পছন্দ করেন। রাজনীতিতে এসে মানুষের সেবাই করছি। মানুষের জন্য যদি ন্যায্য কথা বলতে না পারি ও সত্যি কথা বলতে না পারি তাহলে রাজনীতি করে কি লাভ?

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ফতুল্লার ইসদাইরস্থ (অক্টোফিস) এলাকায় মরহুম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়ামের কনফারেন্স রুমে করোনাকালে নানা সমস্যায় পতিত নারায়ণগঞ্জের ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের প্রধানমন্ত্রীর অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কারণ সবাই জানতো বঙ্গবন্ধু সামনে আছেন। বঙ্গবন্ধু না থাকলে আমরা কখনও স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পেতাম না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিকে রুখে দেয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন এখন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের উন্নয়ন আর অগ্রগতি ও সোনার বাংলা গড়তে শেখ হাসিনাকেই লাগবে। এটাই সত্যি।

শামীম ওসমান বলেন, বাসা থেকে আসার সময় দুটি সংবাদ পেয়ে মনটি খারাপ হয়ে গেল। একটি হলো দুটি মধ্যবিত্ত পরিবার। বাসায় অসুস্থ মানুষ। এর মধ্যে কারও চাকরি নেই। তারা করোনাকালে সমস্যায় পড়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। আমি বলেছি সাহস হারাবেন না। আরেকটি হলো আমাদের সহকর্মী দুই এমপি একজন লাইফ সাপোর্টে আরেকজনও অসুস্থ।

তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঈদের পর আপনাদের নিয়ে সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়তে মাঠে নামবো। সবাই সত্যি লিখবেন। কাউকে ছাড় দেবেন না প্লিজ। সেটা আমি হলেও ছাড় দেবেন না। আমি চাই সাংবাদিকরা সমাজের ভালো কাজে এগিয়ে আসবেন এবং আমাদের কাজের সহযোগিতা করবেন।

তিনি কারোনাকালে নানা সমস্যায় জর্জরিত উপস্থিত ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদেন উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার ভেঙে পড়বেন না। আল্লাহ বলছে তোমরা হতাশ হইয়ো না। একটি কথা মনে রাখবেন। কালো মেঘ জমবে, আবার মেঘ সরে গিয়ে আলো আসবেই। তাই আশা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে একটি ছেলে আছে ফুটবলার আরিফ। সে করোনাকালে টিম না পেয়ে বেকার হয়ে জোগালির কাজ করছে। এটা লজ্জার কিছু নেই। আমি কানাডা থাকতে দোকানে কাজ করেছি, ফার্মে কাজ করেছি। কৃষিকাজ করেছি। কাজের কোনো লজ্জা নেই।

তিনি নিজের পরিবারের অভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবাকে যখন জেলে যেতে হয়েছিল তখন আমাদের পরিবার ছয় মাস পর্যন্ত খেয়ে না খেয়ে ছিলাম। টাকার জন্য এসএসসির ফরম পূরণ করতে পারিনি। অভাব-অনটন মানুষকে মানুষ হতে শেখায়। কিন্তু কষ্ট লাগে এই কারোনাকালে কিছু মানুষের শিক্ষা হচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষিত মানুষগুলো চুরি করে যাচ্ছে। তবে কিছু ভালো মানুষের জন্য আল্লাহর দয়ায় আমরা টিকে আছি।

বক্তব্য শেষে করোকালে ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক ও সংগঠকদের ৭০ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। প্রধামন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৪৫ জন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিজ উদ্যোগে আরও ২৫ জনকে সংযুক্ত করে ৭০ জনকে আর্থিক অনুদান দেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী, ক্রীড়া সংগঠক ইব্রাহীম চেঙ্গিস, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার গোলাম রসূল গাউস, ক্রীড়া সংগঠক ফিরোজ মাহমুদ শ্যামা ও ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমানসহ।

আপনার মতামত লিখুন :