বিপজ্জনক সময়ে প্রবেশ করছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক?

0
45

সাম্প্রতিক সময়ে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চরম তিক্ততার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একপক্ষ আরেক পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা, কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কারণে দেশ দু’টির সম্পর্ক দিন দিন খারাপ থেকে খারাপের দিকেই যাচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে যেভাবে ভুল বোঝাবুঝি চলছে তা যদি এখনই বন্ধ না হয় তবে দেশ দু’টি সংঘাতের দিকেই এগিয়ে যাবে। যদিও দু’পক্ষ হয়তো এখনই অস্ত্র তুলে নেবে না। কিন্তু চাপা উত্তেজনা আরও বড় সংঘাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

এদিকে, পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিপজ্জনক আকার ধারণ করছে। গত ২৭ জুলাই বেইজিংয়ের নির্দেশে ছেংতু অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহ আগেই হিউস্টনে অবস্থিত চীনা কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নির্দেশের পাল্টা জবাব দিতেই ছেংতুতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে দু’দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক শুরুর পর এভাবে পাল্টাপাল্টি দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।

সম্প্রতি লন্ডনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত অভিযোগ তুলেছেন যে, নভেম্বরের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বলির পাঁঠার খোঁজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ট্রাম্প প্রশাসন কমিউনিস্ট শাসিত চীনের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্যু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করছে; যাতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফায়দা তোলা যায়।

এদিকে, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের ঘটনায় চীনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দু’দেশের উত্তেজনা, হংকং ইস্যুসহ নানা বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের ক্রমেই অবনতি ঘটছে।

বিশেষ করে হুয়াওয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশ দু’টির মধ্যে তিক্ততার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কারণ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চাপে হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্রিটেনের যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল তার অবনতি ঘটেছে। ৫জি নেটওয়ার্কের জন্য হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্রিটেনের যে চুক্তি ছিল তারা সেটা থেকে সরে এসেছে। এটাকে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :