মাদক সন্ত্রাসী সুফিয়ান ও তার বাহিনী বেপরোয়া: এদের রুখবে কে?

0
232
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ মাদক কেনা বেচা ও বিভিন্ন অপরাধের হোতা সুফিয়ান এক আতংকের নাম। কিছুদিন জেলে আর কিছুদিন জেলের বাইরে থেকে মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজী আর খুন এ নিয়েই সুফিয়ানের দিনকাল। সুফিয়ানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিপর্যস্ত বিভিন্ন পরিবার। কিন্তু কে এই সুফিয়ান আর কেইবা ওকে শেল্টার দিচ্ছে এ প্রশ্ন এখন অনেকের মুখে মুখে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ এলাকার ভাড়াটিয়া আজিজুর রহমানের কুখ্যাত ছেলে সুফিয়ান একাধিক মামলার আসামি হয়েও বীরদর্পে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুফিয়ান ও তার বাহিনীকে কে বা কারা পরিচালনা করছে তা জানার আগ্রহ অনেকের।কয়েকটি ঘটনার বর্ণনায় জেনে নেয়া যাক সুফিয়ানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড-
মাদক ব্যবসায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিরব। তখন সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের শেল্টারদাতা আইলপাড়া পাঠানটুলীর এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে সুফিয়ান ও তার বাহিনী নতুন আইলপাড়া এলাকায় ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর রাতে নির্মম ভাবে হত্যা করে নিরবকে। এ ঘটনায় অসহায় স্ত্রী পলি বেগম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে সুফিয়ানসহ ৫ জনকে আসামি করে ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা নাম্বার ৪৭। পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করলেও মামলাটি আলোর মুখ দেখেনি। এলাকাবাসী জানায়, নিরবকে খুন করার পেছনে পূর্ব শত্রুতার জেরও ছিলো। ঐ বড় ভাইয়ের সাথে নিরবের নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সাপ বেজির মত সম্পর্ক ছিল।
২০১৫ সালের ১০ আগস্ট জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযানে সুফিয়ান ইয়াবাসহ আটক হয়। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত সুফিয়ানকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। যার মোবাইল কোর্ট মামলা নাম্বার ১০০।
সুফিয়ান চাঁদাবাজি আর মানুষকে জিম্মি করে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে লুটে নিয়েছে অনেক কিছু। ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী আক্তার নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে সুফিয়ানসহ ৬ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলো।যার নং-আর ৩০০৫ ভি।
২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি হাজীগঞ্জ বাস্তহারায় অভিযান চালায়। এ সময় সুফিয়ান ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরক ঘটাইলে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। তারপরও ধমে যায়নি পুলিশ বাহিনী। অবশেষে সুফিয়ানসহ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। ঐ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় ডিবি পুলিশের এস আই মোঃ মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) এর ৩ (খ) ৯ (খ) ২৫ ধারায় এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। মামলা নং যথাক্রমে ৩১ ও ৩২।
মাদক ব্যবসায়ী ও কিলার সুফিয়ান জেলে বন্দি থেকেও অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।জেলে থেকেই সুফিয়ানের নির্দেশে মাদকের পার্টনার বন্ধু জামাই বাবুকে ২০১৭ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে হাজীগঞ্জ বাস্তহারা এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করে। জামাই বাবুর স্ত্রী শেফালী আক্তার ১২ জনকে আসামি করে ৩০২/৩৪ ধারায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৮৩। আসামীরা সবাই সুফিয়ানের বন্ধু ও অপরাধ কর্মকাণ্ডের সহযোগী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুফিয়ানের সাথে বেশীরভাগ মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছে নতুন আইলপাড়া এলাকার শাহজাহান ড্রাইভারের কুখ্যাত ছেলে দেলোয়ার হোসেন দেলু। এই সুফিয়ান ও দেলুকে শেল্টার দিচ্ছে কে-তা আইলপাড়া পাঠানটুলী ও হাজীগঞ্জবাসীর মুখে মুখে থাকলেও প্রাণ ভয়ে শংকিত এবং আতংকিত থাকে।
২০২০ সালের পহেলা আগষ্ট ঈদের দিন রাতে পাঠানটুলি মোড়ে সুফিয়ান ও তার বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে হাজীগঞ্জের আহাদ আলম শুভকে। শুভ একজন প্রবাসী। ঘটনাটি এলাকাবাসীকে নাড়া দিয়েছে। যখন শুভকে মারধর করে তখন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন মাদক সন্ত্রাসীদের বড় ভাই। শুভ ঐ বড় ভাইয়ের কাছে বাঁচার আকুতি করেও তার নির্মম পাথর মনটাকে গলাতে পারেনি। এক পর্যায়ে বড় ভাইয়ের উপস্থিতিতে মাদক সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত জখম করে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত বরন করেন শুভ।
বরাবরের মতোই মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের গডফাদার ঐ বড় ভাই প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কিভাবে অন্যদের হয়রানি করবে সে বিষয়েও ব্যপক প্রস্তুতি নেয় বড় ভাই। এলাকার সাধারণ মানুষ ঐ গডফাদার ও তার বাহিনী থেকে থেকে মুক্তি চায়। চায় সুফিয়ানকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় তাদের আইনের আওতায় আনতে।এলাকায় যে কোন ঘটনা ঘটলে এবং ঐ বড় ভাইয়ের কোন সহযোগি বিপদে পড়লে চেষ্টা তদবিরে ব্যাস্ত হয়ে ওঠেন আর টাকা খরচ করতে থাকেন বলে জানা গেছে। তবে এলাকার মাদক সন্ত্রাসীদের ঐ বড় ভাইয়ের ভয় কেউ প্রতিবাদতো দূরের কথা মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :