সমালোচকের বর্ণনায় ইসলামিক সভ্যতার রূপ দিয়েছিলেন যারা

0
60

ইসলাম এবং সহিংসতাকে অনেকেই একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন, অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ইসলাম ধ্বংসাত্মকবাদী কোনও ধর্ম নয়। মার্কিন ইতিহাসবিদ এবং ইসলাম বিষয়ক গবেষক চেজ রবিনসনের লেখা ‘ইসলামিক সিভিলাইজেশন ইন থার্টি লাইভস’ বইয়ে এসব বিষয় বেশ সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে। বইটিতে ইসলামী ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ও ঘটনার বেশ কিছু বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে হযরত মুহম্মদ (স)-এর সৃজনশীল এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী অভিব্যক্তিও প্রকাশ পেয়েছে।

বইটিতে অবশ্যই শাসক এবং যোদ্ধাদের কথা রয়েছে। হযরত মুহম্মদ (স) থেকে শুরু করে ৯০০ বছর পরের শাহ ইসমাইলের ধারাবাহিক বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে এর। রবিনসনের মতে, যুদ্ধবিগ্রহের চেয়ে তাদের শিল্পরুচি বা নান্দনিকতাই বেশি আলোচিত হয়েছে। হযরত মুহম্মদ (স) যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়ের চেয়ে বরং তার আদর্শের জন্য বেশি প্রশংসিত। সাইপ্রাস জয় করা খলিফা আবদুল আল মালিক জেরুজালেমের ‘ডোম অব রক’ নির্মাণের জন্য অধিক পরিচিত। গজনীর সুলতান মাহমুদ, যিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের হিন্দু রাজ্যগুলো জয় করেছিলেন, তিনি অপরূপ সব বাগান তৈরি করে ইসলামী সম্রাজ্যের পূর্বপ্রান্ত সাজানোর জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। মঙ্গোলীয় বিজেতা তৈমুর খুলির পাহাড় গড়েছিলেন ঠিকই, তবে সমরখন্দে অনন্য মসজিদও তৈরি করেছিলেন। কনস্টান্টিনোপলের অটোমান শাসক সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ ছিলেন নবজাগরণকারী।

jagonews24

রবিনসন উল্লেখ করেছেন, মুসলিমদের হাত ধরে যে সভ্যতা হাজির হয়েছিল, তা শুধু পণ্যের নয়, ধারণারও বাজার ছিল। তিনি বলেন, নগরায়ণ ও স্বাক্ষরতাকে আধুনিক ঘটনা বলে মনে করা হয়। কিন্তু সেটি ভুল। ইসলামী বিশ্বে অনেক আগেই বিশ্বায়ন ঘটেছিল। এর বাণিজ্যসমৃদ্ধ শহরগুলো ছিল বিশ্বের সেরা।

নবম শতাব্দীতে বাগদাদ যেভাবে বিকশিত হয়েছিল, এক হাজার বছর পর ম্যানহাটনের অবস্থা তেমন হয়েছে। ৩০ হাজার গন্ডোলা (বিশেষ ধরনের নৌকা) চলত টাইগ্রিস নদীতে। আরেকটি ইসলামিক রাজধানী কর্ডোবা ছিল ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ শহর। কিছু দুর্দান্ত মানসিকতার লোক তৈরি হয়েছিল সেখানে। দ্বাদশ শতাব্দীর যুক্তিবাদী ইবনে রুশদ (আভেরোইস) প্রাচীন ধর্মতত্ত্ববিদদের বিরুদ্ধে গিয়ে অ্যারিস্টটলীয় দর্শনকে সমর্থন করেছিলেন, তার এ মনোভাব থমাস অ্যাকুইনাসের মতো মানুষদেরও প্রভাবিত করেছিল।

চতুর্দশ শতাব্দীতে ইসলামী সভ্যতার কেন্দ্রটি ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হয়। এ শহরটি সেসময় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও শিল্পীদের আকর্ষণ করতে থাকে। চিকিৎসায় অগ্রগতি এবং সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নেরও চূঁড়ায় ছিল তারা। এক বিধ্বংসী লড়াইয়ের পর মঙ্গোলীরা বিজ্ঞান গবেষণায় নতুন বিনিয়োগের সূচনা করেছিল।

মুসলিম সভ্যতায় ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি মৌলবাদ, জাতিগত দ্বন্দ্বের মতো বেশ কিছু নেতিবাচক বিষয়ও তুলে ধরেছেন চেজ রবিনসন। তার বইতে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও এর প্রভাবের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

(দ্য ইকোনমিস্ট থেকে অনূদিত)

আপনার মতামত লিখুন :