গণআদালতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে : ইশরাক

0
52

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বিএনপির বৈদেশিক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যাদের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন হয়, তাদের সাথে পশুর মতো আচরণ করে তাদের হত্যা করছেন। এটি বন্ধ করেন। তা না হলে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না, ইতিহাস আপনাদের কখনও ক্ষমা করবে না। অবশ্যই একদিন আপনাদের বিচার হবে।

তিনি বলেন, আমরা এই প্রেসক্লাবের সামনে গণআদালত বসাবো। জনগণ হবে এর বিচারক, জনগণের সামনে এই খুনি ওসি প্রদীপসহ যারা বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছেন, সকলের তালিকা আমাদের কাছে আছে। তাদের সকলকে আমরা বিচার করব। এটাই হলো শেষ কথা, কাউকে ক্ষমা করা হবে না।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক বলেন, কয়েকদিন আগে একজন নিরস্ত্র সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এটা কি আমরা এই বাংলাদেশে প্রথম দেখতে পেয়েছি? ২০০৯ সালে এই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুধুমাত্র বিরোধী দলকে দমন করার জন্য তারা খুন, গুম, হত্যা, মামলা, হামলার পথ বেছে নিয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত বাংলাদেশে এটি হওয়ার কথা ছিল না। আমি আমার বাবার সাথে বাংলাদেশকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আলাপ করতাম। তিনি বলতেন, যেই গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ করেছি আজকে, প্রায় ৫০ বছর হলো সেই গণতন্ত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমি বলতে চাই, আমরা আজকে যে প্রতিবাদ করছি সেটা যদি এই সরকার আপনারা শুনতে না পান, আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, এই দেশটা সকল জনগণের। এদেশে সকলের সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আপনারা নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করবেন আর আমরা সেটা দেখবো সেটা বেশিদিন সহ্য করা যায় না।

ইশরাক বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে আজকে সবাই জাগ্রত হয়েছে, সারা বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভিপি নুর একটু আগে বলেছে, বুকে সাহস যদি না থাকতো বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। কাপুরুষের মতো আমাদের বাবারা পালিয়ে যেত, আমরা আজকে বাংলাদেশ পেতাম না। আমরা কাপুরুষ জাতি না, আমরা যোদ্ধা জাতি। আমার বাবা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এই ঢাকা শহরে আমার বাবা যুদ্ধ করেছিলেন এবং পাকিস্তানিদের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করেছিলেন। আমি সেই বাবার সন্তান হয়ে সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করছি, শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত আপনাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম চালিয়ে যাব। এটা কোনো এক দলের বিষয় নয়, কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, গোটা বাংলাদেশের বিষয়। তাই আমি অনুরোধ জানাবো, দেশের সকল স্বাধীনচেতা মানুষ আপনারা যে যেখানে আছেন, আমি জানি আওয়ামী লীগেও অনেক ভালো মানুষ রয়েছেন, তারা আজকের এই বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধা করেননি। আপনারাও আমাদের এই কাতারে শামিল হন, জনগণের কাতারে শামিল হন।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :