উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, ২৭ জেলে উদ্ধার

0
31

ফাইল ছবি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উত্তাল বঙ্গোপসাগর। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে বঙ্গোপসাগরের ‘গুলীদ্ধার’ নামক স্থানে দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে অন্তত দুটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার নৌকাডুবির শিকার একটি ট্রলার কক্সবাজারের খুরুশকুলের হলেও অপরটি চট্টগ্রামের বলে জানিয়েছে জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি।

ডুবির শিকার ‘এফবি মায়ের দোয়া’ নামের একটি ট্রলারের ২৭ মাঝি মাল্লাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৭৪ ঘোড়া অশ্বশক্তিবিশিষ্ট ট্রলারটির মালিক খুরুশকুলের আবুল মনছুর।

বোট মালিক আবুল মনছুর জেলেদের বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার ভোর ৩টার দিকে বঙ্গোপসাগর হঠাৎ উত্তাল হয়ে ওঠলে জেলেরা মাছধরা বন্ধ করে ঘাটে ফিরে আসতে শুরু করে। এ সময় ভোর ৪টার দিকে সাগরের ‘গুলীদ্ধার’ নামক স্থানে প্রচণ্ড ঢেউয়ে ডুবে যায় ‘এফবি মায়ের দোয়া’। ট্রলারটির ২৭ মাঝি মাল্লাকে আশপাশের ট্রলারগুলো উদ্ধার করে ঘাটে নিয়ে আসে।

এরপর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। একই সময়ে সাগরের ‘গুলীদ্ধার’ নামক স্থানে চট্টগ্রাম এলাকার আরও একটি নৌকাডুবির শিকার হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরে ২টি নৌকাডুবির শিকার হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। যার মধ্যে একটি ট্রলার কক্সবাজারের, অপরটি চট্টগ্রামের।

তিনি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ করে কক্সবাজারের সকল বোট ঘাটে ফিরে এসেছে। বর্তমানে ট্রলারগুলো নদীতে নিরাপদে রয়েছে।

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সূত্রমতে, কক্সবাজারে মাছ ধরার ছোটবড় ৭ সহস্রাধিক যান্ত্রিক বোট রয়েছে। এর মধ্যে বড় নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ জন এবং ছোট নৌকায় ৫ থেকে ১৭ জন জেলে থাকে। আবার কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর ঘাটের ইঞ্জিনবিহীন ককশিটের বোটে থাকে মাত্র ২ জন জেলে।

বড় নৌকাগুলো বা ইলিশ জালের বোটগুলো গভীর বঙ্গোপসাগরে এবং ছোট বোটগুলো উপকূলের কাছাকাছি ছোট প্রজাতির মাছ ধরে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘পাঁচকাড়া’ (পাঁচ প্রকারের) মাছ বলা হয়। এছাড়া ককশিটের বোটগুলো প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরতে যায়। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার থেকে সাগরে সকল ধরনের মাছধরা বন্ধ রয়েছে। অর্ধলক্ষাধিক জেলে কূলে অবস্থান করছে।

আপনার মতামত লিখুন :