ইউএনও ওয়াহিদার আট টুকরা হাড় জোড়া দিয়েছেন চিকিৎসকরা: হামলাকারী গ্রেফতার

0
58

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের মাথায় ভাঙা হাড়ের সাত-আটটা টুকরা অস্ত্রোপচারে জোড়া দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আঘাতের কারণে আরও ছোট ছোট যে কাটা ছিল সেগুলোও ঠিক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরোসার্জন ও গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, ছয় সদস্যবিশিষ্ট চিকিৎসক দলের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওয়াহিদার অস্ত্রোপচার শেষ হলেও ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিলি থানার থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, র‌্যাব, পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি ও পুলিশের বেশ কিছু ইউনিট রাতভর অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে জেলার হাকিমপুর উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকা থাকে আসাদুল হক (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ওসমানপুরে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা সরকারি আবাসিক ভবনে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এ সময় চিৎকারে তার সঙ্গে থাকা বাবা ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে অন্য কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুরে পাঠানো হয়। ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে রংপুর ডক্টরস ক্লিনিকে আইসিইউতে ও তার বাবাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওয়াহিদা খানমকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন :