ভুল তথ্য দেয়া ৯০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ

0
81

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও ভুল চাহিদা দেয়ার অজুহাতে অনেক সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের যোগদান করতে দেয়া হয়নি। এমন ভুল চাহিদা দেয়া ৯০৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তালিকা তৈরি করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হয়েও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে। এতে নিয়োগ পেয়েও অনেক শিক্ষক সরকারি অংশের বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না অনেক শিক্ষক।

জানা গেছে, ভুল চাহিদা দেয়া সারাদেশের ৯০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভুল তথ্য দেয়ায় ১ হাজার ১৭৩ জন প্রার্থী জটিলতায় পড়েছেন। এদের মধ্যে ৩২টি প্রতিষ্ঠান এমপিও পদ নন-এমপিও ঘোষণা করেছেন। এজন্য ৩৫ জন প্রার্থী এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। তালিকাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। এসব জটিলতার জন্য দায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আকরাম হোসেন জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগে যেসব প্রতিষ্ঠানে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, আমরা সেগুলোর তালিকা করেছি। ইতোমধ্যে তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে গত ৯ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এনটিআরসিএর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও ভুল চাহিদা দেয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয় শিক্ষা অধিদফতর ও এনটিআরসিএকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক চৌধুরী বলেন, এনটিআরসির মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এখনও নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সেসব সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ভুল তথ্য এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে আবার তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের যোগদান করানোর পর তাদের বেতনভাতা দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এনটিআরসিএর পাঠানো চিঠি আমার হাতে এসে এখনো পৌঁছায়নি। তালিকা পেলে আমরা তা যাচাই-বাছাই করে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

আপনার মতামত লিখুন :