আমিরাত-বাহরাইনের সাফল্যেও থামছে না নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি

0
18

মাত্র একমাসের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর বাহরাইনের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পাশে রয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরও নিজ দেশেই ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ যেন কিছুতেই থামছে না।

টানা ১২তম সপ্তাহে গত শনিবারও জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। এদিন তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে জড়ো হয়ে বাঁশি বাজিয়ে, পতাকা নেড়ে, ব্যানার-পোস্টার হাতে তুমুল স্লোগান তুলে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শনিবার শুধু জেরুজালেমেই সমবেত হয়েছিলেন প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। এছাড়াও ছোট-বড় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে গোটা দেশজুড়েই। আয়োজকদের দাবি, সব মিলিয়ে এদিন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন অন্তত ২৫ হাজার ইসরায়েলি।

Netanyahu--3.jpg

প্রায় ৯০ লাখ জনসংখ্যা দেশ ইসরায়েলে এ পর্যন্ত অন্তত দেড় লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন এক হাজারেরও বেশি। মহামারির ধাক্কায় ইতোমধ্যেই বড় মন্দার মুখে পড়েছে দেশটি, বেকারত্বের হার চলে গেছে ২০ শতাংশের ওপর।

গত আগস্টে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, করোনা সংকট মোকাবিলায় নেহানিয়াহুর সক্ষমতায় বিশ্বাস নেই দেশটির ৬১ শতাংশ মানুষের।

সমালোচকরা বলছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের শুনানি নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত ছিলেন যে মহামারি মোকাবিলায় নজর দিতে পারেননি।

৭০ বছর বয়সী এ নেতার বিরুদ্ধে গত মে মাসে বিচার শুরু হয়েছিল এবং আগামী জানুয়ারিতে তা ফের চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

Netanyahu--3.jpg

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, এগুলো তার মতো জনপ্রিয় নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বামপন্থীদের রাজনৈতিক চক্রান্ত মাত্র। বিক্ষোভকারীরা গণতন্ত্রকে পদদলিত করছে অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মাত্র একমাসের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করেছে ইসরায়েল। বিষয়টিকে বেশিরভাগ ইসরায়েলি স্বাগত জানালেও করোনা মহামারিতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটে অনেকটাই চাপা পড়ে যাচ্ছে এ সাফল্য।

গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে আগামী রোববার বিশেষ বিমানে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন নেতানিয়াহু। আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে না গিয়ে আলাদা বিমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়ার কথা ছিল তার।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সতর্কতার কারণেই নেতানিয়াহু ও তার পরিবারের জন্য আলাদা বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার নেতানিয়াহুর সহযোগীরা জানিয়েছেন, তিনি বাকি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই বিমানেই যুক্তরাষ্ট্র যাবেন।

সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন :