রাতে বাড়িতে ঢুকে মা-মেয়েকে হেনস্তার অভিযোগ দুই পুলিশের বিরুদ্ধে

0
57

বরিশালের উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাড়ি তল্লাশির নামে মা-মেয়েকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তল্লাশির সময় ওই বাড়িতে বেড়াতে আসা এক বৃদ্ধকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তার কাছ থেকে নগদ চার হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের সানুহার গ্রামে মৃত সুনিল হালদারের বাড়িতে। সুনিল হালদারের মৃত্যু হয় প্রায় ১০ বছর আগে। এরপর ওই বাড়িতে তার স্ত্রী ইসমিতা হালদার (৬৫) ও তার ছোট মেয়ে সুইটি হালদার (৩০) বসবাস করে আসছেন।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুল ইসলাম আলম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবুল বাশার।

সুইটি হালদার অভিযোগ করেন, ৮ সেপ্টেম্বর আমাদের বাড়িতে বাবার বন্ধু আজিবর রহমান (৭০) চাচা বেড়াতে আসেন। আজিবর রহমানের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। পেশায় তিনি সবজি ব্যবসায়ী। আজিবর রহমানের কাছ থেকে উজিরপুরের কয়েকজন আড়তদার সবজি কিনেন। সবজি বিক্রি বাবদ উজিরপুরের আড়তদারদের কাছে কয়েক হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে তার। ওই টাকা সংগ্রহ করতে আজিবর রহমান উজিরপুরে এসেছিলেন।

সুইটি হালদার বলেন, আজিবর রহমান আমার বাবার বন্ধু। তার সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমাদের সু-সম্পর্ক। বাবা মারা যাওয়ার পরও তিনি আমাদের খোঁজখবর নেন। আপদে-বিপদে সাহায্য করেন। তাকে আমি চাচা বলে ডাকি। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে আজিবর চাচা আমাদের বাড়িতে থেকে যান। রাতে খাবার খেয়ে আমি ও আমার মা নিচতলায় একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ি। আজিবর চাচা দোতলার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ রাত সাড়ে ১২টার দিকে উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুল ইসলাম আলম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবুল বাশার দরজা ধাক্কাতে শুরু করেন। দরজা খুলে দিলে তারা কিছু না বলেই তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা দোতলা থেকে আজিবর চাচাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে আসেন। এ সময় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাবার বয়সী বৃদ্ধ আজিবর চাচা ও আমাকে জড়িয়ে নানা অশালীন মন্তব্য করেন। ভয়ভীতি ও মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আজিবর চাচার পকেট থেকে নগদ চার হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

সুইটি হালদার বলেন, আমার স্বামী আছে। কিন্তু সেই দিনের ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের লোকজন নানা কথা বলেন। বিষয়টি আমার স্বামীর কানে গেছে। এখন আমার সংসার ভাঙার উপক্রম হয়েছে। আমি দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার চাই।

সুইটির মা ইসমিতা হালদার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দূরের কথা থানায় জিডিও নেই। তারপরও পুলিশ এসে আমাদের হেনস্তা করেছে। আমার মেয়েকে ও আমাকে নিয়ে খুব বাজে বাজে কথা বলেছে। তাদের কারণে এখন গ্রামে মুখ দেখাতে পারছি না। তারা আমাদের সমাজে হেয় করেছেন। তাদের যত শাস্তি দেয়াই হোক না কেন, আমাদের এই অপমান কখনও দূর হবে না।

অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুল ইসলাম আলম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি ইসমিতা হালদারের বাড়িতে মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা এক আসামি অবস্থান করছেন। তথ্যের ভিত্তিতে রাতে ইসমিতা হালদারের বাড়িতে অভিযান চালাই। তবে বাড়িতে কোনো আসামি পাওয়া যায়নি। একজন বৃদ্ধা ছিলেন। পরে সেখান থেকে আমরা চলে আসি। কিন্তু টাকা নেয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সেদিন রাতে এরকম ঘটনা ঘটেনি।

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ওসি জিয়াউল আহসান বলেন, বাড়ি তল্লাশির নামে কোনো নারীকে হয়রানি করা হয়েছে- এমন অভিযোগ থানায় কেউ দেয়নি। তারপরও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি-না তা খোঁজ নিয়ে দেখব।

আপনার মতামত লিখুন :