দুর্নীতি আছে বলেই সব বিভাগে অব্যবস্থাপনা : নসরুল হামিদ

0
63

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘দুর্নীতি নেই এটা বলব না। দুর্নীতি আছে বলেই সব বিভাগে অব্যবস্থাপনাটা রয়ে গেছে। অব্যবস্থাপনার কারণেই অনেক কিছু আমাদের চোখের আড়ালে ঘটে যায়। তবে আমি মনে করি, পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। আমরা আরও ভালোর দিকে যেতে চাই।’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় গঠিত তিতাসের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে তিতাসের তেমন কোনো গাফেলতি উল্লেখ করা হয়নি। মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটির অবহেলাকেই অনেকাংশে দায়ী করা হয়েছে।

তিতাসের এ প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিতাসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো তাদের গ্যাস লিকের কারণে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল কি না- তা জানতে। তারা আজকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিল। এখনও প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে দোষ কেউ এড়াতে পারবে না। এ জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে তিতাসের ৭ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নেই এটা বলব না। দুর্নীতি আছে বলেই সব বিভাগে অব্যবস্থাপনাটা রয়ে গেছে। অব্যবস্থাপনার কারণেই অনেক কিছু আমাদের চোখের আড়ালে ঘটে যায়। তবে আমি মনে করি, পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। আমরা আরও ভালোর দিকে যেতে চাই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে আপাত দৃষ্টিতে প্রতিবেদনটি সত্য মনে হচ্ছে। পরবর্তীতে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব। ডিপিডিসি সম্পর্কে তদন্ত চলছে- কীভাবে দীর্ঘদিন অবৈধ সংযোগ নিয়ে একজন গ্রাহক চলতে পারে। তদন্তের ওপর ভিত্তি করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তবে আগের থেকে পরিস্থিতি দিন দিন ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ৩১ জন মারা গেছেন।

প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে এসি নয়, গ্যাসলাইন থেকে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

মসজিদ কমিটির দাবি, মসজিদের নিচ দিয়ে গ্যাসের পাইপ গেছে। প্রায়ই গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। তিতাসের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।

দুর্ঘটনার পরদিন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ দুর্ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা অফিসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে তিতাস।

আপনার মতামত লিখুন :