গায়েবি মামলায় সাংবাদিক কারাগারে : তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাবি

0
73

পুলিশের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার চার্জশিটে রংপুরের এক সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত ও আদালতের পরোয়ানায় কারাগারে পাঠানোর অভিযোগের তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন চেয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আবশ্যক উল্লেখ করে আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে অভিযােগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে অনুরোধ করেছে কমিশন।

এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক সুস্মিতা পাইক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদ।

চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘পুলিশের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলায় সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানাের অভিযােগ’ শিরােনামে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটির প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ইত্তেফাকের রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার সাবেক প্রতিনিধি সাংবাদিক আশরাফুল আলম পুলিশের রােষানলের শিকার হয়ে এখন কারাবন্দি। ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়ের করা অন্তর্ঘাতমূলক কাজে ষড়যন্ত্র করার অপরাধে গায়েবি মামলায় গত রােববার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। আশরাফুল আলম বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার সংবাদ ও স্থানীয় দৈনিক প্রথম খবরের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

প্রকাশিত সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, আশরাফুল ইত্তেফাকের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি থাকাকালীন ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি বদরগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বাদীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি এবং পরে তাকে (সিরাজুল) বদলি করার ঘটনায় একাধিক সংবাদ ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এসআই সিরাজুল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুর রহমানের যােগসাজশে ওই মামলায় সাংবাদিক আশরাফুলের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি গােপনে আদালতে অভিযােগপত্র দাখিল করেন।

মামলার বিষয়ে আশরাফুল এতদিন কিছুই জানতেন না। হঠাৎ করে গত রােববার বেলা ১১টার দিকে আদালতের গ্রেফতারি পরােয়ানামূলে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আমিরুলবাড়ি গ্রামের বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে গ্রেফতার করে মর্মে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুর বলেন, ‘আমি তদন্ত কর্মকর্তা হলেও সবকিছু করেছেন মামলার বাদী এসআই সিরাজুল।’

এ ব্যাপারে ওই সময় বদরগঞ্জ থানার দায়িত্ব পালনকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান প্রধান (বর্তমানে রংপুর মহানগরের তাজহাট থানার ওসি) বলেন, ‘মামলায় সাংবাদিক আশরাফুলের নাম জড়িয়ে আদালতে অভিযােগপত্র দেয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক। পুরাে বিষয়টি আমার অগােচরে হয়েছে।’

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আবশ্যক। আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে অভিযােগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা হলো।

আপনার মতামত লিখুন :