শুভ হত্যাকান্ড উন্মোচিত হচ্ছে: মামলা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে ডিবিতে নির্দেশদাতা ও আসামি ধরতে মাঠে পুলিশ

0
64

স্টাফ রিপোর্টার: পাঠানটুলীতে ঈদের দিন রাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শুভকে চিহ্নিত মাদক সন্ত্রাসীদের শেল্টারদাতা এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে খুন করা হয়েছে বলে এজাহার ভুক্ত আসামী সুফিয়ানের বক্তব্যে উঠে এসেছে। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আর-৮০৩/ভি স্মারকে উল্লেখিত তথ্য পাওয়া গেছে।

আলোচিত শুভ হত্যা মামলাটি অবশেষে অধিকতর তদন্তের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিতে বদলী করা হয়েছে।

মামলায় ৫ জন আসামী জেলে থাকলেও অন্যান্য এজাহার ভুক্ত ও সম্পূরক আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে এবং জেলে থাকা ৪ জন আসামীকে রিমান্ডে নিবে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান।

জানা যায়, গত ১ আগষ্ট দিবাগত রাতে আহাদ আলম শুভ (৩০) কে পাঠানটুলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত যখম করে। মুমুর্ষ অবস্থায় শুভকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২ আগষ্ট ৯ জনকে এজাহার ভুক্ত এবং আরও ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন শুভর পিতা মোঃ বশির। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নাম্বার ১(৮)২০ ধারা:৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।

এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন-শফিকুর রহমান রনি, কাউসার আহম্মেদ কালু, হৃদয়, রিফাত, আবু সুফিয়ান, আরাফাত খন্দকার সোহাগ, সোয়াদ, বিপ্লব ও জাহাঙ্গীর। উল্লেখ্য যে মামলাটিতে সুফিয়ানকে বাদীপক্ষ প্রধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও কোন এক অদৃশ্য ইশারায় ৫ নং আসামি করা হয়েছে সুফিয়ানকে। আর যাকে প্রধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেই রনি শুভকে বাঁচাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল আর তখনই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বলে জানাগেছে।

বাদীপক্ষ উল্লেখিত মামলায় আসামী হিসেবে আরও কয়েক জনের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে গত ৬ আগষ্ট নতুন আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। সম্পূরক আসামীরা হলেন-সজল, রানা, বাদশা, রাজন, শাওন, রকি সহ আরও একজন।

আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাদীপক্ষের নিরাপত্তার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর গত ২০ আগষ্ট একটি লিখিত আবেদন করেন মামলার বাদী। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে সহকারী কমিশনার (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) ২৪ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারকে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং গৃহিত কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন। যার স্মারক নং-১০৭৫।

পরবর্তীতে আসামীদের অব্যাহত হুমকির মুখে বাদী পক্ষ থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের জোর দাবী জানালে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।

লিখিত সূত্রে জানা যায়, এজাহারভুক্ত আসামী সুফিয়ান মোবাইল ফোনে শুভকে খুন করার একটি বর্ণনা দেন। সেখানে বলেন, “আমরা শুভকে খুন করতে চাইনি কিন্তু ……. ভাইয়ের নির্দেশে শুভকে খুন করি”।

মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসী সুফিয়ান প্রবাসী শুভ খুনের নির্দেশদাতার নামটি অকপটে বলে গেছেন। তদন্তের স্বার্থে নামটি এখানে প্রকাশ করা হলো না।

বর্তমানে মামলাটি নতুন ভাবে মোড় নিচ্ছে এবং প্রকৃত খুনিরা বের হয়ে আসছে বলে জানা গেছে। শুভ খুনের সাথে যারা জড়িত এবং যাদের নির্দেশে খুন হয়েছে তাদেরকে দ্রুতই গেফতার করা হবে বলে পুলিশ জানান।

৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী অফিসার মুঠোফোনে বলেন, ৫ জন আসামী জেল হাজতে আটক আছে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে আবারও রিমান্ডে আনা হবে এবং বাকীদেরও খুব শ্রীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলে তদন্তকারী অফিসার জানান।

তবে এ ব্যাপারে আসামীদের তথ্য উপাত্ত সহ বিভিন্ন রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রকৃত খুনিরা কেউ ছাড় পাবে না বলে প্রশাসন থেকে জোরালো ভাবে বলা হয়েছে।

মামলাটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে ডিবিতে বদলী হওয়ায় ইতিমধ্যে নির্দেশদাতা বড় ভাই বিভিন্ন জায়গায় লবিং তদবির ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে নিজেকে বাচানোর জন্য এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মামলার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন নাকট মঞ্চস্থ করছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, শুভকে যখন নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত ও লাঠি দিয়ে পিটাচ্ছিলো তখন ঐ নামধারী বড় ভাই ঘটনাস্থলেই ছিলো বলে জানা গেছে। সিসি ফুটেজেও দেখা গেছে। খুনিদের লালন পালন করে আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে আর এলাকার সচেতন ও অভিজ্ঞ মহলকে হয়রানি করার পাঁয়তারা করছে। বড় ভাই নিজেকে সেভ করার জন্য আইলপাড়া পাঠানটুলি এলাকায় যে কোন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সচেতন মহল আশংকা করছেন।

এলাকায় ঐ নাটের গুরু বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার অপরাধ কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মাদক সন্ত্রাসীদের শেল্টারদাতা বড় ভাই পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে এবং যে কোন সময় আটক হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :