আমি আশাবাদী আমার মেয়ে নির্দোষ প্রমাণিত হবে : মিন্নির বাবা

0
51

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রায়ের পর থেকেই মিন্নিসহ ছয় আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বরগুনা কারাগার থেকে মিন্নি তার বাবার সঙ্গে কথা বলে কান্নাকাটি করেন বলে রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে হাইকোর্টে সাংবাদিকদের জানান তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। তিনি বলেন, সে সময় শুধু আব্বা শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে পারেনি মিন্নি। কান্নায় ভেঙে পড়েছে।

মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, বুধবার মিন্নিসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর তাদের বরগুনা কারাগারে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের কনডেম সেলে রাখা হয়।

তিনি বলেন, সকাল ১০টার দিকে কারাগার থেকে মিন্নি আমার ও আমার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে। সে খুব কান্নাকাটি করেছে। কারাগারে মিন্নি ভালো নেই। তাকে একা একটি নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে।

মিন্নির বাবা দাবি করেন, মিন্নি নির্দোষ। একটি কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে এ মামলায় ফাঁসিয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করার জন্যই তার মেয়েকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এদিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি নিয়ে হাইকোর্টে এসেছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাইকোর্টে আসেন তিনি।

এ বিষয়ে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রায়ের কপি হাতে পেয়ে রওনা দিয়েছি, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাইকোর্টে এসেছি। এখন আইনজীবী জেড আইন খান পান্না ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলামের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আমি আশাবাদী আমার মেয়ে উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। এ মামলায় চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাং বন্ড গ্রুপ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ২ জুলাই মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড নিহত হন। রিফাত হত্যা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে দুটি ভাগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ জন শিশু আসামি।

আপনার মতামত লিখুন :