মেঘনায় বালু উত্তোলন বন্ধে ডিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি

0
44
বালু উত্তোলনে নদী ভাঙ্গন থেকে কৃষি জমি ভিটে-বাড়ি রক্ষায় ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে স্বারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা মেঘনা নদীতে চালিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ লতিফ নার্গিস ট্রেড্রাস নামে ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ন এবং সানাউল্লাহগং আফসারউদ্দিন ট্রেডাস নামে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক থেকে ৩টি মৌজায় সেনেরচর ১৪.১০, ভাসানিয়া দড়িচর ১৪.৮০ ও অন্য একটি মৌজায় ৬০ একর ইজারার নামে মেঘনা নদীর আড়াইহাজার থানার চরলক্ষীপুর, মধ্যারচর, নিতারটেক, ঝাউকান্দী, বিবিরকান্দী, পূর্বকান্দী, কদমিরচর, বদলপুর, খাগকান্দা, নয়াপাড়া, কমলাপুর ও তাতুয়াকান্দা। সোনারগাঁ থানার নুনেরটেক, চেঙ্গাকান্দী ও চরকমলাপুর। মেঘনা থানার মৈশারচর, নলচর, রামপ্রসাদের চর, তুলাতলী, শিবনগর, কাচেরকান্দী, ছয় আনি ও তালতলী গ্রামগুলো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রতিদিন সরকারি অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের যোগসাজসে আনলিমিটেড ২০-১০০টি ড্রেজার ও ২০০-৩০০০ বলগেইট দিয়ে প্রায় হাজার হাজার একর জমি থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে।
বিশেষ করে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলনের স্থান পরিবর্তন করে এবং রাতে গ্রামগুলোর ধারে গিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে অসহায় মানুষগুলো ইজারাধারের অস্ত্রধারী বাহিনীর মুখে মামলা হামলার ভয়ে জিম্মি হয়ে নিরব থাকতে হচ্ছে। অনেক আন্দোলন, মানববন্ধন, পত্র-পত্রিকার শিরোনামও তারা পাত্তা দিচ্ছে না। সেপ্টম্বরের প্রথম সপ্তাহে সোনারগাঁয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধ বালু উত্তোলনে ৬ জনকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিলে ১ সপ্তাহের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের অবৈধ অর্থের ক্ষমতা অনেক বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনে দিন-রাত ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আয়ের বিনিময়ে চারোদিকে সন্ত্রাসী বাহিনীসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের হাত করে আধিপাত্য বিস্তার করছে। সরকার বছরে ২টি ইজারায় প্রায় ২কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। অন্যদিকে হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েও গ্রামগুলো রক্ষা করা সম্ভব নয়। মেঘনা এলাকার ২ লক্ষ মানুষ ইজারার নামে জিম্মি করে অবৈধ বালুমহলের টাকা ছড়াছড়ি করে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নিয়স্ত্রণ করে পরিবেশ ও মানবতা নষ্ট করছে। জনস্বার্থে গণ আন্দোলনের পূর্বে তদন্তপূর্বক বালু উত্তোলন বন্ধ করে মেঘনা নদীর তীরের মানুষের বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি রক্ষাসহ সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে জনস্বার্থে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ ইজারা বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে. এম আবু হানিফ হৃদয়, নারায়ণগঞ্জ বাসি সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব নুরুউদ্দিন আহমেদ, মানব কল্যাণ পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ মান্নান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের আঞ্চলিক শাখার চেয়ারম্যান সুমন মাস্টার, গ্র্যাজুয়েট এসোসিয়শনের সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, বন্দর নাগরিক কমিটির সভাপতি কবির সোহেল, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনসহ ১৬টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জনস্বার্থে এই বালু মহল বন্ধ না করলে সোনারগাঁ, মেঘনা, আড়াইহাজারসহ জাতীয় ভাবে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। নেতারা আরো অভিযোগ করেন ইজারাদাররা কিছু এমপি ও প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে ঘুম-খুন হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে রাতভর চালায় বালু উত্তোলনের মহাউৎসব।এ ব্যাপারে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।
আপনার মতামত লিখুন :