‘শুধু ভাইরাল হলে ব্যবস্থা, আর চাপা রাখতে পারলে রক্ষার নীতি ছাড়ুন’

0
134

কোনো অপরাধ শুধু ভাইরাল হলে ব্যবস্থা গ্রহণ, আর চাপা রাখতে পারলে অপরাধীকে রক্ষার নীতি পরিহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর জাসদ আয়োজিত ধর্ষক-গুন্ডা-দুর্নীতিবাজ-লুটেরা-অপরাধী ও তাদের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর দমনাভিযানের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

শিরীন আখতার বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে পুলিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থার নাকের ডগায় সারাদেশে এলাকায় এলাকায় সংঘবদ্ধ গুন্ডাবাহিনী, সংঘবদ্ধ ধর্ষকবাহিনী, সংঘবদ্ধ অপরাধীবাহিনী গড়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, এলাকার রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধিরা দায় এড়াতে পারেন না, তাদেরই এর জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারকেই এই সংঘবদ্ধ গুন্ডাবাহিনী, ধর্ষকবাহিনী, অপরাধীবাহিনীকে ধ্বংসের দায়িত্ব নিতে হবে। ‘তুই রাজাকার’ বলে যেভাবে আওয়াজ তুলে রাজাকারদের সামাজিকভাবে বর্জন করা হয়েছিল ঠিক সেভাবেই ‘তুই ধর্ষক’, ‘তুই গুন্ডা’, ‘তুই দুর্নীতিবাজ’, ‘তুই লুটেরা’ বলে ধর্ষক, গুন্ডা, দুর্নীতিবাজ, লুটেরাদের সামাজিকভাবে বর্জনের জন্য সারাবছর ধরে দেশের প্রতিটি এলাকায় আন্দোলন চালু রাখতে হবে।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধর্ষক, গুন্ডা, দুর্নীতিবাজ, লুটেরাদের ঠিকানা রাজনৈতিক দল আর তাদের রক্ষাকারী কোনো নেতা হতে পারেন না। হৈ চৈ হলে, জানাজানি হলে, ভাইরাল হলে গ্রেফতার, বহিষ্কার, দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করে আর বাহবা পাওয়া যাবে না। শুধু ভাইরাল হলেই ব্যবস্থা গ্রহণ আর চাপা রাখতে পারলে অপরাধীকে রক্ষা করার নীতি পরিহার করুন। জনগণের বাহবা পেতে হলে আর একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগে, আর একজন নারীও ধর্ষণের স্বীকার হওয়ার আগে ধর্ষক, গুন্ডা, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, অপরাধী ও তাদের সংঘবদ্ধ বাহিনীগুলিকে এখনই রাজনৈতিক দল থেকে বের করে দিতে হবে।

জাসদের কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. রবিউল আলম বলেন, করোনা মহামারির চেয়ে বড় আকারে মহামারি হিসাবে দেখা দিয়েছে ধর্ষণ, দুর্নীতি ও লুটপাট। সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা ছাড়া করোনা, ধর্ষণ, দুর্নীতি, লুটপাট—এই চার মহামারি মোকাবিলা করা যাবে না।

তিনি বলেন, সুশাসন ও আইনের শাসনের দাবিতে রাজপথে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকা মহানগর জাসদের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নুরুল আখতার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোহসীন, রোকনুজ্জামান রোকন, নইমুল আহসান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুন্নবী, কোষাধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইদ্রিস আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইদ্রিস ব্যাপারী, ঢাকা মহানগর পূর্ব জাসদের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহ আলম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :