নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক ইলিয়াস খুনের ঘটনা অন্তরালে. . .

0
73

সৈয়দ সিফাত লিংকন : নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক ইলিয়াস খুনের ঘটনায় মূল ঘাতক ধরা পড়লেও অন্তরালে রয়ে গেছে নানা অজানা তথ্য। মাদক কারবারী, অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যানিজ্য ও আধিপত্যকে বিস্তার করতেই সাংবাদিক ইলিয়াসকে খুন করা হয়েছে এমনটা অভিযোগ তার স্বজন ও স্থানীয়দের। তবে খুন করেও ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা। তাই মামলা তুলে নিতে নিহতের পরিবার ও তার কর্মরত পত্রিকার সম্পাদককেও প্রাণনাশের হুমকী অব্যাহত রেখেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এ হুমকীর ঘটনায় বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত তুষার সহ তুর্জয়রা স্থানীয় কথিত যুবলীগ নেতা মো. মাসুদ ওরফে মাসুদ প্রধানের সহযোগী। এদের মত আরো কয়েকশত সদস্য নিয়ে গঠিত কিশোর গ্যাং এর নেতৃত্ব দেন সেই মাসুদ প্রধান। তারা ভেবেছিল জিও ধারা এলাকায় মাদককারবারী ও অবৈধ গ্যাসের রমরমা বানিজ্য করতে পথের কাটা সরাতে হলে খুন করতে হবে ইলিয়াসকে। আর তারই ধারাবহিকতায় উপর্যোপুরি ছুরিকাঘাতের পর নির্মমভাবে মৃত্যু ঘটায় সাংবাদিক ইলিয়াসের।
আরো জানা গেছে, গতমাসে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিওধারা চৌরাস্তা এলাকায় কথিত যুবলীগ নেতা মো. মাসুদ ওরফে মাসুদ প্রধান এর টর্চার সেলে নেয়া হয়েছিল সাংবাদিক ইলিয়াসকে। শারিরীক নিপিড়ন শেয়ে হুমকী দেয়া হয়েছিল, তাদেরকে জড়িয়ে এলাকার কোন নিউজ যেন ইলিয়াস না করে। নানা হুমকী দামকীতে ভীত থাকলেও সেসময় থানায় কোন সাধারণ ডায়েরী না করায় এমন নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রাণ হারালো সাংবাদিক ইলিয়াস। তবে তার পরিবার সহ স্থানীয় কিছু সাংবাদিক বিষয়টা জানলেও তা নিয়ে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে সমাধান করতে রেখেছে ব্যপক ভূমিকা।
এদিকে, সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যাকান্ডের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অধরা রয়ে গেছে মামলার বাকি অভিযুক্তরা। উল্টো মামলা তুলে নিতে ৩নং বিবাদী মাসুদ প্রধানের ফোন থেকে দেয়া হচ্ছে বাদি পক্ষের লোকজনকে হুমকী। শুধু তাই নয়, মামলায় যেন নাম না থাকে সেজন্য চলছে জোড় তদবির! এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিকেও কল দিয়ে সুরাহ করার পায়তারা চালাচ্ছে সাংবাদিক ইলিয়াসের খুনিরা। পাশাপাশি এ মামলাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে অন্যদিকে চাপিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে জড়িত ছবি নিয়ে অপপ্রচার। এতে করে সন্ত্রাসীদের অপশক্তির প্রভাবে অনেকটাই আতংকে সময় কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী নিহতের পরিবার ও তার সহকর্মীরা। সকলেই সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যাকান্ডের মূল রহস্যের উন্মোচন চায়, জানতে চায় এসব সন্ত্রাসীদের শেল্টারদাতা কারা? এ হত্যাকান্ডের অন্তরালে চাবি কাঠি নাড়ছে কারা?
প্রসঙ্গত, রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিওধারা চৌরাস্তা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় সাংবাদিক ইলিয়াসকে৷ সে ওই এলাকার মজিবর মিয়ার ছেলে৷ স্থানীয় একটি পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ওই রাতে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন৷ মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে৷ ঘটনাস্থল থেকে আটক আসামি তুষারকে (২৮) পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা৷ পরে অভিযান চালিয়ে মিনা (৬০) ও মিসির আলী (৫৩) নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ মামলায় অন্য আসামিরা হল-হাসনাত আহমেদ তুর্জয় (২৪), মাসুদ (৩৬), সাগর (২৬), পাভেল (২৫) ও হজরত আলী (৫০)।
এ বিষয়ে কথা হলে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভূইয়া প্রতিবদেককে জানায়, সাংবাদিককে হুমকীর বিষয়ে একটি জিডি হয়েছে। আমরা তা নিয়ে কাজ করছি। মামলার অন্য আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে তারা এখনো পলাতক। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পাশাপাশি আমরা নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখছি। এ মামলাটি আমরা সকল রাজনীতির প্রভাবের উর্ধ্বে কাজ করছি। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :