ভালো কাজে মনোযোগী হতে হবে

0
132

কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে কষ্ট হচ্ছে ? অনেকে অভিযোগ করে থাকেন , “ কাজে মন বসাতে পারছি না’’। কোন সমস্যার মধ্যে থাকলে কোন কাজেই মন দেওয়া যায় না। অনেক সময় নিজেকে কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে।

অনেক সময় দেখা যায়, আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠিক করলেন আজ সারাদিন কি কি কাজ করবেন। তার একটা প্ল্যানও করলেন। কিন্তু কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারলেন না । আপনি সকালে ভেবেছেন এক কিন্তু দিনশেষে দেখলেন কিছুই হলো না। হয়তো আপনি বন্ধু মহলের সাথে আড্ডায় মেতে উঠলেন অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ।এটা আমাদের অনেকের সাথেই হয়ে থাকে। এতে আপনি আপনার নিজের সময় নষ্ট করছেন এবং কাজ বা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছেন।

কাজ বা পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধির কিছু উপায় আছে। এসব উপায়গুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারলে কাজে মনোযোগী হওয়া সম্ভব।

ঘুম

ঠিকভাবে ঘুম না হলে সেটার প্রভাব আমাদের মনের উপর পড়ে। আর মন ভালো না থাকলে কাজে মনোযোগ দেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে।   প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন। প্রতিদিন নিয়ম করে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। ঘুমালে শরীর ভালো থাকে , কাজে মনোযোগ দেয়া যায়।

ধ্যান

ধ্যান  মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে। মন শান্ত  থাকে। প্রতিদিন ভোরবেলা অথবা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অন্তত ১০ মিনিট নিজেকে সময় দিন। ১০ মিনিট ধ্যান করুন। ধ্যান করলে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এতে ধীরে ধীরে কাজে মনোনিবেশ করা যায় ।

ব্যায়াম বা শরীরচর্চা

ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে শরীর ঝরঝরে থাকে। ব্যায়াম স্মরণশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি সহায়ক। নিয়মিত ব্যায়াম এর অভ্যেস করলে কাজে মনোযোগী হওয়া যায়।

শৃঙ্খ্লা

নিয়ম মেনে চললে  কাজের মধ্যে সামঞ্জস্যতা আসে। শৃঙ্খ্লা বজায় থাকে। জীবনটাকে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসুন।

ডায়েরী লেখা

ডায়েরী লেখার অভ্যেস গড়ে তুলতে পারেন। কি কাজ করবেন ডায়েরীতে লিখে রাখুন এবং ডায়েরী নিজের সাথে রাখুন । এতে করে কাজ করার তাগিদ পাওয়া যাবে।

বই পড়া

নিয়মিত বই পড়ার অভ্যেস কাজে মনোযোগী হতে সাহায্য করে । নিয়মিত বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন । তবে মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনে নয়, হাতে নিয়ে বই পড়ার অভ্যেস করুন নিয়মিত । পৃথিবীতে যত বড় বড় নেতা আছেন তাঁরা সবাই নিয়মিত বই পড়েন।

অগ্রাধিকার

সারাদিনের কাজকে ভাগ করে নিতে পারেন। যে কাজটা সবচে বেশি জরুরী সেটা আগে করুন। তবে এক কাজ করতে গিয়ে অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না। একটা কাজ শেষ করে অন্য কাজ করুন । কাজ ভাগ করে নিলে কাজ করতে সহজ হয় এবং মনোযোগী হওয়া যায়।

বিরতি

গবেষণায় দেখা গেছে একজন মানুষের একটানা ৯০ মিনিট কাজে মনোযোগ থাকে। একটানা কাজ না করে কিছু সময় বিরতি নিয়ে আবার কাজ করা শুরু করুন। এতে কাজ করার উদ্যম পাবেন।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ

মনোযোগ এ ব্যাঘাত ঘটায় এমন জিনিস থেকে দূরে থাকুন । কোন কাজ করার আগে মোবাইল বা টিভি নিয়ে বসে পড়বেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। তাই এগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন।

চুইংগাম

গবেষণায় দেখা গেছে কাজ করার সময় চুইংগাম চিবালে কাজে মনোযোগ দিতে সুবিধা হয় । তাই কাজের সময় চুইংগাম চিবোতে পারেন । তবে সেটা যেন হয় চিনিমুক্ত।

আনন্দ

আপনি যে কাজ করে আনন্দ পান সে কাজ করুন। যে কাজ করে আনন্দ পান না  সেটা না করাই ভালো। আগ্রহের বিষয়ে কাজ করা সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এতে মনোযোগ ধরে রাখাও সহজ হয়।

লাল রঙ

ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার গবেষণায় জানা গেছে লাল রঙ স্মৃতি শক্তি এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে অফিসের বা পড়ার টেবিলে লাল কোন বস্তু, লাল রঙের জামা, কম্পিউটারে লাল ওয়ালপেপার ইত্যাদি ব্যবহার করে আপনার আশে পাশে বাড়াতে পারেন লাল রঙ এর প্রাচুর্য।

ব্রেইন গেম

মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন গঠনমূলক কাজে। এ ক্ষেত্রে ব্রেইন গেমগুলো খুবই কার্যকর যেমন আপনি – দাবা, সুডোকো , পাজল এসব গেম খেলতে পারেন। এতে ব্রেইন সচল থাকবে এবং কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি করা যাবে।

মিউজিক

গবেষণায় দেখা গেছে কাজ করার সময় হাল্কা মিউজিক মনোযোগে সহায়তা করে থাকে। আপনি গুগল এ সার্চ করলে পেয়ে যাবেন এরকম মিউজিক ওয়েবসাইট গুলো।

ক্যাফেইন

কাজ করার ফাঁকে পান করে নিতে পারেন এক কাপ কফি বা চা। এতে নিজেকে ফ্রেশ  লাগবে । কাজে মনোযোগ দিতে সহজ হবে।

এভাবে চর্চা করতে থাকলে দেখবেন সব কাজেই মনোযোগ দিতে পারছেন। কাজে আর একঘেঁয়েমি থাকবে না। কাজ করতেও ভালো লাগবে।

আপনার মতামত লিখুন :