বাংলার ইতিকথা শিমুল পারভীন

0
98
শোনেন শোনেন ভাই বোনেরা শোনেন দিয়া মন
সোনার বাংলার ইতিকথা করিব বর্ণন।
আমি করিব বর্ণন।
বঙ্গ, গৌড়, রাঢ়, পুন্ড্র প্রাচীন জনপদ
বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ছিলো যে সম্পদ।
আহা ছিলো যে সম্পদ।
সমতট, হরিকেল বরেন্দ্রর পলিমাটি
ফল ফসলে ছিলো যে উর্বর আর খাঁটি,
আহা উর্বর আর খাঁটি।
তুর্কি এলো, মোঘল এলো, এলো যে আফগান
বাংলায় তারা পেল যে অমূল্য সব ধন,
আহা অমূল্য সব ধন।
তারপর,
তারপর ২০০ বছর ইংরেজ শাসনের কাল
বাংলা আমার দুঃখিনী মা হলো বেসামাল।
পলাশীর প্রান্তরে স্বাধীনতার সূর্য
দূর আকাশের অন্ধকারে হলো যে ত্যজ্য।
শাসন শোষণ বাড়লো আর, বাড়লো নিপীড়ণ
প্রতিবাদে সোচ্চার হলো, বাঙলার জনগণ।
হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব বিদ্বেষ ভুলে
দেশ প্রেমের হাতিয়ার, নিলো হাতে তুলে।
ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা আরো সূর্যসেন
অন্ধকার আকাশে প্রদীপ জ্বালালেন।
বাঙালি বীরের জাত, সবাই তিতুমীর
ভয় করে না কোন বাধা, ঊর্ধ্বে রাখে শির।
সুভাষ বসু, চিত্তরঞ্জন, কৃষক নুরুলদীন
স্বপ্ন চোখে বাংলাকে করবেন শোষণহীন।
৪৭-এ ফিরিঙ্গিরা গেলো নির্বাসন
দু’শ বছরের নৈরাজ্যের হলো অবসান।
তারপর পাকিস্তানের দুঃশাসনের কাল
বাংলা মা আবার যেন কিছু বেসামাল।
ভাষার জন্য রক্ত দিলেন, সালাম বরকত
বাঙালিরা ভয় পায় না, লড়াকু এক জাত।
এরপরে ৭১-এ, বীরেরা দিলেন প্রাণ
সারা দেশে বেজে উঠলো, জয় বাংলার গান।
হাজার বছর লড়াই করে, আজো আছি টিকে
সংগ্রামী জাতির সুনাম তাই তো দিকে দিকে।
ভিনদেশিরা যতই আসুক, আমরা লড়তে জানি
দেশ আমাদের স্বর্গসম, দেশকে মা মানি।
ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে সামনে গিয়ে দাঁড়াই
সংগ্রামী হাত দু’খানি, দেশের জন্য বাড়াই।
ইতিহাসের দীর্ঘপথে ছড়িয়ে আছে সব
বীরের জাতি বাঙালি যে বিশ্বের গৌরব।
আপনার মতামত লিখুন :