তারুণ্য জাগলেই দেশ দাঁড়াবে

0
131

যুগে যুগে পৃথিবীর বাঁক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তরুণরা। আমরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো কথাটিকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, উদ্দাম দুঃসাহসী তরুণরা যদি ঘরের খেয়ে বনের মোষ না তাড়াত, তাহলে এই পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্য হতো না। কাজেই বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাস তৈরি করেছে তরুণরা। পৃথিবীর বড় বড় শিল্পী-সাহিত্যিক তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন।

তরুণ-তরুণীদের মানসিক গঠনে, চিন্তা-চেতনা বিকাশে যেমন একটা পারিবারিক ভূমিকা থাকে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে রাষ্ট্রের। সমাজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা, সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আর এগুলোর ওপর অনেকটাই নির্ভর করে তারুণ্যের সুষ্ঠু বিকাশ।

ইদানীং তারুণ্যের বড় একটা অংশ সময় অপচয় করছে ভার্চুয়ালজগতে বা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থেকে। সেখানে তারা ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়ে সারা দিন লাইক গুনে কিংবা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কুতর্কের মধ্যে তারা একটা ভ্রমের ভেতর হাবুডুবু খাচ্ছে।

আমাদের পরিবার, আমাদের সমাজ তরুণদের মন্ত্র দেয়—‘চাকরি করো, চাকরি করো’। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের একটা নিরাপদ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে পারলেই নিশ্চিত শান্তির জীবন বলে মনে করি। তাদের বলি না, তুমি এমন একটা কিছু করো, যাতে তুমি মানুষকে চাকরি দিতে পারো। এই মানসিকতা ভাঙার সময় এসেছে।

তারুণ্য মূলত একটা পজিটিভ শক্তি, তারুণ্য একটা দেশের ঐশ্বরিক সম্পদ। এই তরুণরাই হিমালয় পর্বতের মাথায় দেশের পতাকা উড়িয়ে আসে, এই তারুণ্য শক্তিই ক্রিকেট কিংবা ফুটবলে নৈপুণ্য দেখিয়ে পৃথিবীর মানুষের মুখগুলো আমাদের দেশের দিকে ঘুরিয়ে আনে—বলে, দেখো, আমরা বাংলাদেশের তরুণ। তারা গুগল, নাসার মতো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বলে—আমিই বাংলাদেশ! কাজেই তারুণ্যের এই বাংলাদেশকে জাগাতে হবে। আর এই তারুণ্য জাগলেই দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

আপনার মতামত লিখুন :