সাইনবোর্ডে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার

0
76

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযুক্ত সড়ককে সাইনবোর্ড বা বিশ্বরোড বলা হয়। সড়কেটিতে হাজারো মানুষ ও পরিবহনের আনাগোনা পুরো চব্বিশ ঘন্টাই থাকে। সাইনবোর্ড চৌরাস্তা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ জেলাসহ সংযুক্ত জেলাগুলোর গণপরিবহন সহজেই মিলে যায়। যাতায়াতের অনেক সুবিধা থাকলেও অসুবিধার শেষ নেই এই সড়কে। জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার ও দীর্ঘ যানজট এই সড়কের অন্যতম সমস্যা।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের অধিকাংশ গণপরিবহনগুলো এই সড়ক হয়ে ঢাকায় যেতে হয়। ফলে জেলার গণপরিবহনগুলো সাইনবোর্ড এলাকা থেকে যাত্রী উঠা-নামা করায়। কোন কোন গণপরিবহনের কাউন্টার এখানে থাকায় ১০-২০ মিনিট পরিবহনগুলো অবস্থান নেয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাগামী বাসগুলোর অধিকাংশ কাউন্টার সাইনবোর্ডের উল্টো পাশে অবস্থান নেওয়ায় এখানে স্টপিজ নেয় অধিকাংশ বাসগুলো। এছাড়া বিভিন্ন জেলার মালবাহী ট্রাক সাইনবোর্ড দিয়েই যাতায়াত করে। ফলে চতুর্দিক দিয়ে শুরু হয় যানজটের।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী, কর্মজীবি মানুষ, অসুস্থ রোগী যাতায়াত করে। যেখানে সারাদিন-রাত গাড়ি চলাচল করতে থাকে। প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভুলে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে তাদের। একদিকে যানজটের ভোগান্তি, অন্যদিকে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে হয়। বিভিন্ন সময়ে এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। একের পর এক প্রাণহানি ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখন পর্যন্ত কোন টনক নড়েনি। বর্তমানে এ এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাইনবোর্ডের যানজটের সমস্যা নিয়ে গত বছর প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফ্লাইওভারের দাবি করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি বলেছিলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় যে যানজট সৃষ্টি হয়, তার থেকে রক্ষা পেতে সাইনবোর্ড এলাকায় একটি ফ্লাইওভার জরুরি দরকার। এটার ব্যবস্থা করতে হবে বলে জোড় দাবি জানান তিনি।

অসুস্থ মাকে নিয়ে বারডেম হাসপাতালে যাচ্ছিলেন নজরুল ইসলাম নামে পথচারী। তিনি জানান, ষাটোর্ধ্ব বয়সের অসুস্থ মাকে টেনে হেঁচড়ে রাস্তা পারাপার করতে হচ্ছে। এমনিতে অসুস্থ, তারপরেও জীবনের নিরাপত্তার কথা ভূলে সড়কে পারাপার হতে হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান চাই আমরা।

মিজানুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, সাইনবোর্ড এলাকায় ফুটঅভার ব্রিজের দাবি আমাদের সকলেরই । যানজটের পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকি মালবাহী ট্রাকগুলোতে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ট্রাক প্রবেশের কোন নিয়ম নেই বললেই চলে। তিনি জানান, সিএনজি, অটো রিক্সার স্ট্যান্ডেও ছেয়ে গেছে সাইনবোর্ড এলাকাজুড়ে। মানুষের চলাফেরা করতে খুব সমস্যা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সাইনবোর্ড এলাকায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেইসাথে এই সড়কে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে খুব শিগগির একটি ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের দাবি জানাই।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ নারায়ণগঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ তারিক হোসেন জানান, সাইনবোর্ডের এলাকার এই সমস্যার ব্যাপারে আমরা অবগত। ফুটওভার ব্রিজের ইস্টিমেট এখনও অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন হলে দরপত্র অনুমোদন দিয়ে কাজ শুরু হবে। কবে নাগাদ অনুমোদন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছেনা।

 

আপনার মতামত লিখুন :