শীতের সঙ্গে বাড়ছে গরম কাপড়ের বেচাকেনা

0
79

নগরীর ফুটপাতে চলছে শীতবস্ত্রের জমজমাট বেচা-কেনা। মধ্যবৃত্ত, নি¤œ মধ্যবৃত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষসহ প্রায় সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এ বাজারগুলো থেকে শীতের কাপড় কেনাকাটা করছে। নগরীসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে শীতের হাল্কা হাওয়া। গ্রামের তুলনায় শহরে শীতের তীব্রতা কম। এরপরও সর্দি, কাশিসহ শীতকালীন নানা রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন নগরবাসী। কিনছেন হালকা ও মাঝারি ধরনের শীতের গরম পোশাক।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) ২নং রেল গেট, চাষাড়া, কালিবাজার, হকার্স মার্কেট সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানের ফুটপাত ও মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে শীতবস্ত্র বেচা-কেনার তীব্র ভিড়। করোনার দ্বিতীয় ওয়েব চললেও মানুষকে ঈদ বাজারের মত আগ্রহ নিয়ে শীতের কাপড় কিনতে দেখা গেছে। ভিড়ের কারণে দরাদরি ও যাচাই-বাচাই করে কেনার সুযোগ পাচ্ছে না ক্রেতারা। শুধু কাপড়টি পছন্দ হলেই একদাম একরেটে কিনে অন্যকে কেনার সুযোগ করে দিতে হচ্ছে।

সরেজমিন মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শীত বস্ত্রের মধ্যে বেশি বেচা-বিক্রি হচ্ছে- ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের কাপড়। মাথার টুপি, পায়ের মোজা, হাত মোজা, মাপলার, স্যুায়েটার, জাম্পার, ফুলহাতা গেঞ্জি বিক্রির ফুটপাতের দোকানেই বেশি ভিড় দেখা গেছে। কালিরবাজার পোষ্ট অফিসের সামনে ও চারারগোটে লেপ-কম্বল তৈরির ও বিক্রির দোকানগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। শীত বস্ত্রের দোকানে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সুযোগ বুঝে বিক্রেতারাও অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ করছে ক্রেতারা। নগরীর প্রায় সবগুলো এলাকায়ই ফুটপাতে দোকানে অনেকেই কিনছেন শীতের পোশাক। বিক্রেতারাও গরম কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
নগরীর ২নং রেল গেট এলাকার ফুটপাতের এক ব্যবসায়ী বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ সময় কোনো উপার্যন করতে না পারায় অর্ধাহারে কখনো আবার অনাহারে দিন কাটিয়েছি। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় ফুটপাতে বসা শুরু করলেও পুলিশি চাপের কারণেও বসতে পারছি না। চারদিকে শীতের আবহ শুরু হয়েছে, তাই বেচাবিক্রিও বেড়েছে। যদি বেচাকেনার জন্য কিছুদিন সময় পাই তাহলে করোনাকালীণ ব্যবসায়ীক ক্ষতি কিছুটা হলেও পোষাতে পারতাম।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, গত বছরও শীতবস্ত্রের বেচা-বিক্রি জমজমাট ছিল। তবে করোনার কারণে এবং গত প্রায় এক বছর ধরে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের ধারাবাহিক উচ্ছেদের কারণে আমাদের ব্যবসার বারটা বেজে গেছে। তিনি বলেন, গত কয়েক মাস করোনার কারণে বসতে পারি নাই, যদি কটাদিন সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে শীতের কাপড় বেচা-কেনা লস কিছুটা কাটিয়ে উঠা যাবে বলে তিনি জানান।

দেওভোগের বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। তাই পুরানো শীতের কাপড় দিয়ে আর কাজ হচ্ছে না। তিনি তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে শীতের কাপড় কিনতে এসেছেন, ২নং রেল গেটের ফুটপাতে। তিনি বলেন, যেভাবে শীতের কাপড় বেচা-কেনা হচ্ছে এভাবে ঈদ বাজারেও বেচা-কেনা হয় না। মানুষের ভিড়ের কারণে দোকানেই ঢোকা যাচ্ছে না। দরদাম করে কেনাতো পরের কথা।

শীতের কাপর কিনতে আসা সাথী আক্তার বলেন, এখন তো আর হাড় কাঁপানো শীত নেই। তবে রাতের বেলায় কিছুটা শীত পড়ছে। আর এতেই সর্দি, কাশি হচ্ছে শিশুদের। এমননিতেই করোনার ভয়, তার উপর সর্দি কাশি লাগলে একটু বেশীই ভয় লাগে। তাই শীতের হালকা গরম কাপড় কিনতে হচ্ছে।

ছেলেদের শীতের পোশাক মানেই হলো ফ্যাশন-জানিয়ে তোলারাম কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, শীত যদিও নেই তারপরও হালকা বাতাসে শরীরে কাঁপুনি লাগে। তার চেয়ে বড় ব্যাপার হলো ফ্যাশন। টুপিওয়ালা সোয়েটার জিন্সের সঙ্গে পরতে অনেকেরই ভালো লাগে।

এদিকে, ফুটপাতে শীতবস্ত্র কিনতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, বচ্চাদের শীতের কাপড় আগে যেটা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় কেনা যেত এখন সেটা কিনতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে। তিনি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আইটেমেই ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া বলেন, আমরা কমদাম, বেশিদাম সব ধরনের পোশাকই দোকানে তুলি। যে, যেটা পছন্দ করে। শীতের পোশাক বিক্রি মোটামুটি শুরু হয়েছে। তবে শীত একটু বাড়তে শুরু করলে আরও বেশি বেচাবিক্রি হবে।

এদিকে, ফুটপাতের পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেটের দোকানগুলোতেও বেশ জমে উঠেছে শীতের কাপড়ের বেচাকেনা।

আপনার মতামত লিখুন :