ব্যাংকার স্বামী শাহাদাতকে মারধর করে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠালো স্ত্রী রওশন আরা

0
131

এবার পারিবারিক কলহের জেরে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামীকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সেই স্ত্রীও একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। এরপর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে জালকুড়ি দিপ্তি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে রোববার (৬ ডিসেম্বর) ভোর রাতে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম বলেন, ‘হাত- পা বাধা ও মাথা ন্যাড়া অবস্থায়’ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সে ভাবেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দীপ্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মো. শফিউল আজম খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে মাদকাশক্ত আখ্যায়িত দিয়ে দীপ্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আবেদন তার স্ত্রী মতিঝিল শাখার সাউথ ইস্ট ব্যাংকে কর্মরত রওশন আরা।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, মারধরের শিকার ওই ব্যক্তির নাম শাহাদাত হোসেন বাবু (৪০)। শহরের ডনচেম্বার এলাকার মৃত হাবিবুল্লাহ মাস্টারের পুত্র শাহাদাত হোসেন পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। অগ্রণী ব্যাংকের শহরের টানবাজার শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) তিনি। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে মাথার চুল ফেলে দিয়ে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় খোকন (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। সে শহরের ৬৫ নম্বর বিকে রোডের মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম শামীম।

তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে শাহাদাত হোসেনকে জোরপূর্বক গাড়িতে করে দিপ্তি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বাবা-মা তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ তার স্ত্রী রওশন আরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রথমে কিছু না বললেও পরে জানায়, তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রেখে আসা হয়েছে। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাহাদাত হোসেনের ভাতিজা মো. ইয়াসিন জানান শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ৮/১০ জন লোক তার চাচাকে মারতে মারতে টেনেহিচড়ে সাদা মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ:৫৩-৮৩১৬) করে তুলে নিয়ে যায়।

ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, মাইক্রোবাসে উঠিয়ে কয়েকজন তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় দীপ্তি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। সেখানে প্রথমে আমার মাথা ন্যাড়া করে দেন। এরপর আমার সম্পদ ও ব্যাংকে কত টাকা আছে জানতে চান। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় লাঠি দিয়ে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে আমার হাত ও পা বেঁধে মারধর করেন। এভাবে রাতভর নির্যাতন করেন। পরে পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।

তাকে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে মাথার চুল ফেলে দিয়ে ন্যাড়া করে ইনজেকশন দেওয়ার চেষ্টা করে। রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহাদাতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য জানান, এ ঘটনার আড়ালে তার স্ত্রী রওশন আরার হাত রয়েছে। তিনি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের সঙ্গে চুক্তি করে শাহাদাৎকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। তাদের মতে, তদন্ত করলে পুরো বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই এসএম শামীম বলেন, ‘কেউ মানসিক রোগী হলে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত। কিংবা মাদকাসক্ত হলেও পরিবারের অর্থ্যাৎ তার বাবা-মা-ভাই-বোনের মতামত জরুরি। এ ঘটনায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারের লোকজন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালককে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :