সংসদে বঙ্গবন্ধু কর্নার : ৭ মাসে পরিদর্শন বইয়ে সই দুই এমপির

0
53

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হলেও সেখানে দেখা মিলছে না এমপিদের। প্রায় সাত মাস আগে তাদের জন্যই ওই কর্নার স্থাপন করা হলেও সেখানে সংরক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে এ পর্যন্ত মাত্র দুজন এমপির মন্তব্য ও সই মিলেছে।

সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় অধিবেশন কক্ষের পাশে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতাকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন ধরনের বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে তার প্রতিকৃতি, দুর্লভ ফটোগ্রাফ প্রভৃতি। দর্শনার্থীদের বসার জন্য সুন্দর ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে দুটি পরিদর্শন বই। এর একটি এমপিদের জন্য, আরেকটি দর্শনার্থীদের জন্য।

গত জুনে বাজেট অধিবেশনের সময় উদ্বোধন হওয়া এ কর্নারে সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও এমপি ফরহাদ হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী ইসলামের মন্তব্য ও সই রয়েছে।

ফরহাদ হোসেন পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘এখানে সংগ্রহ বা প্রদর্শনীতে ভালো ভালো বইগুলো রাখার জন্য অনেক কৃতজ্ঞ। এই মুজিববর্ষে জাতির পিতা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জেনে নিজেকে সমৃদ্ধ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মতো সোনার মানুষ সম্পর্কে গভীরভাবে জেনেই এবং এই বিশাল হৃদয়ের বাঙালির কাছ থেকে কিছু গুণ নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারলেই একজন বাঙালি হিসেবে সার্থক মনে করব।’

ফেরদৌসী ইসলাম লিখেছেন, ‘আমি মনে করি যুগে যুগে মহামানবের আবির্ভাব হয়। বঙ্গবন্ধু সেই মহামানবের একজন। আমি উনাকে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি, ভালোবাসি। আমার পিতা বাচ্চু ডাক্তার সাবেক এমপি উনার একজন বিশ্বস্ত সহচর, আমি ছোটবেলায় সংসদে এসেছিলাম, তুষারশুভ্র হিমালয়ের মতো শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখেছিলাম। আজ আমাকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা এমপি করে এনেছেন। সেই জন্য আমার পরিবার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। করোনাকালে সবাই ভালো থাকুন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

jagonews24

সংসদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কর্নার উদ্বোধন করেন। করোনার কারণে বেশ কয়েক মাস সংসদে প্রবেশে কড়াকড়ি ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করার পর সংসদের চারটি অধিবেশন বসেছে। সেখানে নিয়ম করে এমপিরা সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কর্নারে তেমন কেউ যাননি।

এ বিষয়ে সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারি চলছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এজন্য সেখানে এমপিরা কম গেছেন। সবাইকে যে পরিদর্শন খাতায় মন্তব্য করতে হবে তা নয়। হয়তো অনেকে গেলেও কিছু লিখেননি।’

কিন্তু চারটি অধিবেশন চলার পরও মাত্র দুজন এমপির মন্তব্য অস্বাভাবিক কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অস্বাভাবিক। হয়তো স্বাস্থ্যগত কারণেই এমনটি হয়েছে।’

এদিকে সংসদ ভবনের মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ঘেঁষে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন’— এ জনসাধারণের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মভিটা থেকে শুরু করে তার শৈশব, কৈশোর, যৌবনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের চিত্রপট তুলে ধরা হয়েছে। মহানায়কের জন্মভিটা টুঙ্গিপাড়া, স্বাধীনতার সুবর্ণ সময় ও এর পরবর্তী সময়ও তুলে ধরা হয়েছে প্যাভিলিয়নে। ঠাঁই পেয়েছে অবিসংবাদিত নেতার কারাজীবনের দুঃসহ কথাও।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও সংসদের বিশেষ অধিবেশন উপলক্ষে গত ১৫ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্যাভিলিয়নটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়।

প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনে আসা চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. হেলাল বলেন, ‘আমার একটা পরীক্ষা শেষ করে এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন দেখে ঢুকলাম। এখানে বঙ্গবন্ধুর জীবনের সব কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। তার যাবতীয় পাওয়া, দেশের জন্য সংগ্রামের সবগুলো এখানে রাখা হয়েছে। আমার খুবই ভালো লাগছে। বঙ্গবন্ধুর এসব দেখে আমরা যেন আরও উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি এটাই প্রত্যাশা।’

আপনার মতামত লিখুন :