সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

0
92

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’টি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে এলাকায় উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদমজী ইপিজেডের মারুহিশা পেসিফিক নামক এক পোশাক কারখানায় ব্যবসা করতো আসলাম নামে এক ব্যক্তি। দেড় বছর পূর্বে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ওই ব্যবসা তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ভাই মাহবুব।

সেই ব্যবসা মারুহিশা পেসিফিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে নিয়ে যান সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মণ্ডল সমর্থক সোহেল ও রনি। তারা উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করতে থাকেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে মতিউর রহমান মতির ভাই মাহবুব, মামুন ওরফে ভাগীনা মামুন, পানি আক্তার ও পেটকাটা মানিকসহ তার সহযোগীরা।

পরবর্তীতে রোববার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে এ নিয়ে ইপিজেডের অভ্যন্তরে মারুহিশা কারখানার সামনে উভয় গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে উভয় গ্রুপে প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসে। তবে এতেও কোনো প্রকার সমঝোতা হয়নি মতি গ্রুপের সদস্যদের চাপ প্রয়োগের কারণে। এক পর্যায়ে ব্যবসা ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে পড়ে মতিউর রহমান মতির ভাই মাহবুব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৫-৩০ জনের ক্যাডারবাহিনী সিরাজ মণ্ডল গ্রুপের উপর চাকু, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ১৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় আহত হেলাল জানায়, আদমজী ইপিজেটে অবস্থিত মারুশিয়া পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১০ জন আহত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলার শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল জানান, আদমজী ইপিজেডের ২৬টি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই মতিউর রহমান মতি ও তার স্বজন, সমকর্থরা ব্যবসা করছে। আমাদের কয়েকজন সমকর্থক দু-একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করলেও তা ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের সমর্থকরা ইপিজেডে ঢুকলে মতিউর রহমান মতির সমর্থক পানি আক্তারের লোকজন হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, মাহবুব আদমজী ইপিজেডের একটি কারখানায় ব্যবসা করছে। এতে সিরাজ মণ্ডলের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে সমঝোতা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারপরও তারা হামলা চালিয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান জানান, আদমজী ইপিজেডের ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :