সমকামিতার দায়ে ইন্দোনেশিয়ায় দু’জনকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত

0
76

যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার দায়ে ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণশীল আচেহ প্রদেশে দুই যুবককে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আচেহ’র রাজধানী বেন্ডা আচেহতে মাস্ক পরা এক কর্মকর্তা জনসম্মুখে ওই দুই ব্যক্তির প্রত্যেককে ৭৭টি করে বেত্রাঘাত করে। খবর বিবিসির।

ইন্দোনেশিয়ায় আচেহ একমাত্র প্রদেশ যেখান ইসলামি আইন কার্যকর। ওই দু’জন ছাড়াও জুয়া, মদ্যপান ও বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের দায়ে আরও চারজনকে বেত্রাঘাত করা হয়।

এএফপির খবরে বলা হয়, শাস্তি পাওয়া দুই ব্যক্তির একজনের বয়স ২৭ ও অপরজনের বয়স ২৯। বেত্রাঘাত করার সময় তারা ব্যথায় কেঁপে উঠছিলেন। শাস্তি প্রদানের সময় বিরতি দেয়া হয় এবং পুনরায় বেত্রাঘাত শুরুর আগে দুই ব্যক্তিকে পানি পানের অনুমতি দেয়া হয়।

শাস্তি পাওয়া একজনের মা এই দৃশ্য দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

একে অন্যের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার দায়ে এক নারী ও এক পুরুষকে একই দিন ২০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এছাড়া মদ্যপ হওয়ার দায়ে ৪০টি করে বেত্রাঘাতের স্বীকার হন অপর দুই ব্যক্তি।

আচেহর জন আদেশ কর্মকর্তা হেরু ত্রিউইজানার্কো এএফপিকে বলেন, ‘ইসলামি শরিয়া আইনই চূড়ান্ত, তা সে যে-ই হোক না কেন। এমনকি ভ্রমণকারীদেরও স্থানীয় মূল্যবোধ অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।’

২০১৫ সালে আচেহতে সমকামিতা নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তৃতীয়বার সমকামী পুরুষদের শাস্তি দেয়া হল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ার কোথাও সমকামিতা অবৈধ নয়। দীর্ঘ বিদ্ধিন্নতাবাদী যুদ্ধের পর ২০০৬-এ ইন্দোনেশিয়ার সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে আচেহকে শরিয়া আইন কার্যকরের অধিকার দেয়া হয়।

তবে সেসময় আচেহ’র রাজনৈতিক নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাদের শরিয়া আইন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর প্রয়োগ করা হবে না এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

কিন্তু ধীরে ধীরে এটি কঠোর আইনে পরিণত হয়েছে এবং শরিয়া পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন :