ব্যাচ ৯৭ এর ৮ম বর্ষপূর্তিতে জমকালো আয়োজনে বিজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা

0
65

যদি বন্ধু হও হাতটা বাড়াও- বন্ধুর এমন মধুর আহ্বান উপেক্ষা করেছে কে কবে? পৃথিবীতে যত সম্পর্ক আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মধুর, আবেগের এবং একইসাথে জটিল একটা সম্পর্ক হচ্ছে বন্ধুত্ব। এ হচ্ছে আত্মার শক্তিশালী বন্ধন যার সাথে জড়িয়ে আছে আবেগ, ভালোবাসা এবং ভরসা। বন্ধুহীন জীবন অনেকটা পালহীন নৌকার মতো। বন্ধুত্বের সম্পর্ককে সংজ্ঞায়ন করতে এপিজে আবদুল কালাম বলেছেন, ‘একটি বই একশটি বন্ধুর সমান। কিন্তু একজন ভালো বন্ধু পুরো একটি লাইব্রেরির সমান।’

বন্ধু আমাদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এটা এমন এক সম্পর্ক যার কাছে নিজেকে মেলে ধরা যায় নিখুঁতভাবে। একজন অন্যজনের ভালো, মন্দ, দোষ সবটা জেনেই তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। চার্লস ল্যাম্ব বলেছেন, ‘একজন সত্যিকারের বন্ধু কখনোই বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয় না।

আর বন্ধুত্বের এমনি এক বিশাল প্লাটফর্ম নিয়ে কাজ করছে ব্যাচ ৯৭। সারাদেশের একঝাঁক সক্রিয়, প্রাণবন্ত এবং সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এর যাত্রা শুরু বিগত যে ৭ বছর আগে। আর এ ৭ বছরে ব্যাচ ৯৭ এর সদস্যসংখ্যা যথেষ্ট। কোভিড-১৯ আমাদের জীবন থেকে এরই মধ্যে অনেকগুলো উৎসব কেড়ে নিয়েছে। বৈশাখ কেটেছে রঙহীন, ঈদ তেমনি ছন্দহীন। ঘরবন্দি জীবনে ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ব্যাচ ৯৭-৯৯ আয়োজন করে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ।

ব্যাচ ৯৭ গঠনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ক্লাবের সকল সদস্যকে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নসাধন করা। সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট মেম্বার এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম- এসডিইপি এই প্লাটফর্মের লক্ষ্য কেবল শুধু বন্ধুত্ব, মজা এবং সাহচর্যের জন্য নয় বরং সমাজের সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া। এছাড়াও সকল সদস্যের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সামাজিক যোগাযোগ স্থাপন করা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের সময় সুচিন্তিত এবং মূল্যবান পরামর্শ ও সুপারিশ চাওয়া, তহবিল সংগ্রহ, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যার যার অবস্থানে থেকে, সদস্যদের নিজ নিজ সক্ষমতা অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সদস্যদের একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করা। এ যেন অনেকগুলো সমমনা মানুষের অপূর্ব এক মেলবন্ধন। তবুও বৃহতাকারে কোনো কাজ করতে গেলে খানিক ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। এগুলোকে পাশ কাটিয়ে ব্যাচ ৯৭ হয়ে উঠুক বন্ধুত্বের এক মহৎ নিদর্শন। আরো জানা যায়, গ্রুপের অ্যাডমিনদের সাথে আছে একদল উদ্যমী মডারেটর টিম।

দোলন বলেন, ব্যাচ ৯৭ বন্ধুদের প্রতি আহ্বান, চলো সবাই মিলে এই ব্যাচ ৯৭ কে গর্ব এবং অহংকার করার মতো একটি প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলি। বন্ধুত্ব উদযাপন করি প্রতিটা দিন প্রতিটা সময়। ব্যাচ ৯৭ এর সকল সদস্য দীর্ঘজীবী হোক।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল থেকে ১৯৯৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সংগঠন ব্যাচ ৯৭’ নারায়ণগঞ্জ গত ২৯ জানুয়ারী শুক্রবার বিকাল ৪ টায় শহরের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অবস্থিত নমপার্কে ব্যাচের বিজয়ী খেলোয়ারদের সংবর্ধনা ও ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল ব্যাচের প্রায় দুইশতাধিক বন্ধুবান্ধব। অনুষ্ঠানে অনেকে তাদের নিজনিজ পরিবারকে সাথে নিয়ে উপস্থিত ছিল। দিনশেষে অনুষ্ঠানটি একটি মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির যুগ্মআহবায়ক মোয়াজ্জেম টিপু’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা লগ্নেই ছিল জাতীয় সঙ্গীত, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও আতশবাজী ফুটানো, এরপর বিজয়ী ক্যাপ্টেন নিতু এবং ম্যানেজার শাকিলের অনূভূতি ব্যক্ত।

সকল বিজয়ী খেলোয়াড়দেরকে পরিচিতিকরণ এবং তাদের মধ্যে পুস্প ও ক্রেস্ট বিতরণ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল ব্যাচের বন্ধুদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর কনসার্ট এবং তাজ এলপিজি ও ফ্রেন্ডস মিডিয়ার স্পন্সরে বন্ধুদের মধ্যে র‌্যাফেল ড্র, এডমিন সম্মাননা ও বাচ্চাদের জন্য গিফট।

নারায়ণগঞ্জের প্রেস ক্লবের সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন সবুজ বলেন, এ ধরণের আয়োজন সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। বর্তমান যুব সমাজের জন্য এ ধরণের প্রোগ্রাম অনেক সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহবায়ক জিতু সুমন বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে সারাদেশের ১৯৯৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নারায়ণগঞ্জের বন্ধুরা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যা এই ব্যাচের তথা নারায়ণগঞ্জের জন্য একটি অভাবনীয় সাফল্য বলে আমরা মনে করি। এই সফলতার জন্য তারা নিজেদের গর্বিতও মনে করেন। এই গৌরব বয়ে নিয়ে আসা সকল খেলোয়ার ও কর্মকর্তাদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নিদর্শন হিসেবেই সকল খেলোয়ার ও কর্মকর্তাদেরকে সংবর্ধনা দিতে পাশাপাশি ব্যাচের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে এই আয়োজন ।

এম এ মান্নান ভূঁইয়া অনুভূতি প্রকাশে বলেন, জীবন চলার পথে প্রত্যেকের জীবনে বন্ধু নামের বিশ্বাসী ও মজবুত একটি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়ে যায়। যে সম্পর্ক কখনো লাভ অথবা ক্ষতির ভাবনায় গড়ে ওঠে না। কিছু মুহূর্ত আমাদের সামনে হাজির হয়ে যায়, যেখানে বন্ধুর গুরুত্ব অপরিসীম। যার কাছে মনের সব লুকানো কথা আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে খুলে বলা যায়। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে টেনে তোলা হয় বিপৎসীমা থেকে নিরাপদ স্থানে। ভুল সিদ্ধান্তের অন্ধকার হতে ফিরিয়ে আলোকিত পথের সন্ধান দেখায়।

জেমী অনুষ্ঠানে এসেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠেন, বন্ধুত্বের জয়গানে মুখরিত হয়ে উঠুক ব্যাচ ৯৭। ভয় কি বন্ধু, এইতো পাশে আছি।

অনুষ্ঠানে কন্ঠশিল্পী লিটন গাঙ্গুলী ও মীমের চমৎকার গান পরিবেশনের মাধ্যমে আনন্দ বিনোদনে ভরপুর হয়ে উঠে বন্ধুবান্ধবরা।

আপনার মতামত লিখুন :