ইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০১ আইনজীবীর আবেদন

0
41

প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অন্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১০১ জন আইনজীবী রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে আবেদন পৌঁছে দেন।

আবেদনে আইনজীবীরা ইসির বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ বাজেটের টাকা হাতিয়ে নেয়া, কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কমিশনারদের গাড়ি ব্যবহার, ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহারে গুরুতর অনিয়ম, নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মের ‍বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্লিপ্ততা ও ব্যর্থতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতা ও বিশেষ বক্তা হিসেবে দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ তদন্তের দাবিয়ে জানিয়েছেন।

আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অভিনব কৌশলে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিজেরা লাভবান হওয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

সংবিধান মতে, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে এ সমস্ত গুরুতর অনৈতিক ও অর্থ সংশ্লিষ্ট অসদাচরণ অভিশংসনযোগ্য অপরাধ। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। সংবিধানের ১১৮ (৫) মতে অনতিবিলম্বে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিপরায়ণ ও গুরুতর অসদাচরণে অভিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের অপসারণ প্রয়োজন। এজন্য তদন্ত চলাকালীন সময়ে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখে তদন্তকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য একজন নির্বাচন কমিশনারকে দায়িত্ব প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে  রাষ্ট্রপতি বরাবর এ আবেদন জমা দিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন, রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, মির্জা আল মাহমুদ, মনিরুজ্জামান, জুলফিকার আলী জুনু, ব্যারিস্টার রেদোয়ানুল হক ও ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

আবেদনে প্রথম স্বাক্ষরকারী আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আমরা মনে করি বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি হারিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সুরাহা না হলে সাংবিধানিক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও পদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছি।’

গত রোববার (৩১ জানুয়ারি) ৪২ জন নাগরিকের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও অন্যান্য গুরুতর অসদাচরণের অভিযাগ তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়।

ইসির সাবেক আইনজীবী শাহদীন মালিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ৪২ জন নাগরিকের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থসংশ্লিষ্ট গুরুতর অসদাচরণ এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও অন্যান্য গুরুতর অসদাচরণের অভিযাগের তদন্তের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল গঠনের আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরবর্তীতে ১৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার লক্ষ্যে আবেদনের সংযুক্তি হিসেবে আরেকটি চিঠি প্রেরণ করা হয়। চিঠির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ সম্পর্কিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বৈশাখী টেলিভিশনের সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদনের কপি সংযোজন করা হয়। একই বিষয়ে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দফতর কর্তৃক উত্থাপিত অডিট আপত্তি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনের কপিও সংযোজন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :