ফেসবুকে কারা বিজ্ঞাপন দেয়, এনবিআরকে তদন্তের নির্দেশ

0
43

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারা বিজ্ঞাপন দেয়, তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তদন্ত করে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কমিটির পঞ্চম সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিটিআরসিকে আমরা অনুরোধ করেছি- বাংলাদেশে যেন সোশ্যাল মিডিয়ার একটি হেড অফিস থাকে। যেমন ভারতে আছে, আমাদের দেশেও যেন থাকে সেজন্য অনুরোধ করেছি। আমাদের নাগালের মধ্যে থাকলে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলতে পারি যে, এ জিনিস আসা উচিত না। অনেক খবর আমরা দেখি ভিত্তিহীন। আইনের আওতায় আনা যায় না। আমরা চাই না নিয়ন্ত্রণ করতে কিন্তু আইনের আওতায় আসতে হবে।’

বাংলাদেশে ফেসবুকের অফিস করার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। না হলে পরে দেখা যাক কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ অবাধে বিভিন্ন তথ্য প্রবাহের কারণে জাতি যদি সেখানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেসব ব্যাপারে তো আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা তো দেশকে ভালোবাসি, দেশের স্বার্থ তো আমরা দেখব।’

home-ministry.jpg

তিনি বলেন, ‘আপনাদের সাংবাদিকদের কোনো খবর বা নিউজ, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চাই- এ রকম কোনো চিন্তা কমিটির নেই এবং আমরা করিও না, সরকারও করে না। যেটা মানবতাবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী, সমাজবিরোধী এ সমস্ত অপপ্রচার ও অপসংস্কৃতি যাতে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেজন্য দেখা উচিত।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘যারা এগুলো চালায়, নাম পরিচয় নেই। সেসব সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা আমাদের দেশ থেকে যাচ্ছে। কেউ যদি অ্যাড (বিজ্ঞাপন) দেয়, বড় বড় কোম্পানি অ্যাড দেয়, তাদের টাকাটা অবৈধভাবে যাচ্ছে। মাগনা তো আর অ্যাড দেয় না। নিশ্চয়ই তাকে টাকা দেয়। কোনো বৈধ পথে দেয় না, অবৈধ পথে দেয়।’

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি এনবিআরকে আজকের মিটিংয়ে অনুরোধ করেছি- ওই সমস্ত মিডিয়া, যাদের রেজিস্ট্রেশন নেই, পরিচয় নাই, তাদের অ্যাড দেয় কারা, কোন কোম্পানি দেয়, কীভাবে দেয়, কীভাবে সেদেশে টাকা যায়, সেগুলো যেন তদন্ত করে দেখে, সেই পরামর্শ আমরা দিয়েছি।’

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :