ঘরের কাজে মজুরি দিতে হবে স্ত্রীকে, রায় চীনা আদালতের

0
56

পাঁচ বছরের সংসার জীবনে স্ত্রী ঘরের যত কাজকর্ম করেছেন, তার মজুরি হিসেবে ৫০ হাজার ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছেন চীনের একটি আদালত। বিবাহ বিচ্ছেদের এক মামলায় বেইজিং আদালতের এই রায়কে যুগান্তকারী হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের মত চীনেও ঘরের কাজ এবং সন্তান দেখভালের প্রধান দায়িত্ব নারীদেরই নিতে হয়। সেকারণে আদালতের ওই রায়ের পর চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, স্ত্রীর কাজের তুলনায় এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ একেবারেই নগণ্য।

চলতি বছরই চীনে নতুন দেওয়ানি আইন কার্যকর হয়েছে। সেই আইনের ভিত্তিতেই ঐতিহাসিক এ রায় দিলেন আদালত।

নতুন ওই আইনে বলা হয়েছে, দাম্পত্য জীবনে যিনি সন্তান বা বয়স্কদের দেখাশোনায় বেশি দায়িত্ব পালন করবেন, বিবাহ বিচ্ছেদের সময় তিনি সেসব কাজের মজুরি বা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এমনকি বিবাহিত জীবনে স্বামীর ব্যবসা বা অন্য কোনো আয়ে স্ত্রীর ভূমিকা থাকলে তারও ক্ষতিপূরণ পাবেন।

jagonews24

চীনা আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর সংসার করার পর চেন নামে এক ব্যক্তি গতবছর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন। তার স্ত্রী ওয়াং প্রথমে বিচ্ছেদে রাজি না হলেও পরে মেনে নেন। তবে পাঁচ বছর ধরে সংসারের কাজ এবং ছেলের দেখভাল করায় স্বামীর কাছ থেকে মজুরি দাবি করেন তিনি।

ওয়াংয়ের অভিযোগ, তার স্বামী এসব কাজে তেমন কোনো সাহায্যই করেননি। আদালত তার এ দাবি মেনে নেন এবং এককালীন ৫০ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ ও খোরপোষের জন্য প্রতিমাসে দুই হাজার ইউয়ান করে দেওয়ার জন্য স্বামীকে নির্দেশ দেন।

গত সোমবারের এই রায় ঘিরে বিতর্কের ঝড় শুরু হয়েছে চীনে। চীনা মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্ম উইবোতে অনেকে মন্তব্য করছেন, পাঁচ বছর কাজের বিনিময়ে ৫০ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ একেবারেই কম।

একজন লিখেছেন, আমি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। একজন সার্বক্ষণিক গৃহবধূর কাজের সঠিক হিসাব বা মর্যাদা করা হয়নি। বেইজিংয়ে একটি শিশুর দেখাশোনা করতে গৃহকর্মী রাখলে এক বছরেই ৫০ হাজার ইউয়ানের বেশি খরচ হয়।

গবেষণা সংস্থা ওইসিডির তথ্যমতে, চীনে এখনও নারীরা প্রতিদিন গড়ে চার ঘণ্টা কাজ করেন, যার বিনিময়ে কোনও মজুরি পান না। সেখানে পুরুষের তুলনায় নারীদের বিনামজুরিতে কাজ করার হার অন্তত আড়াইগুণ বেশি।

আপনার মতামত লিখুন :