মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

0
62

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ইয়াসিন মিয়া (১৯) নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহত যুবক গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পরিবারের দাবি, আত্মহত্যা নয়, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কারণ ওই যুবকের শরীরে দাগ রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নিরাময় কেন্দ্রের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিউদ্দিন ফারুক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বড়পাশা গ্রাম। বাবার নাম মাসুম মিয়া। পরিবারের সঙ্গে তিনি মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টে থাকতেন।

নিহতের আত্মীয় মো. মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, ইয়াসিন অসুস্থ ছিল। এজন্য ২২ জানুয়ারি হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে ইয়াসিনের বাবাকে ফোন দিয়ে বলা হয়, তাকে খিদমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, ইয়াসিন আত্মহত্যা করেছে। আমরা তার শরীরে নির্যাতনের দাগ দেখেছি। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে জানা যাবে সে আত্মহত্যা করেছে কিনা।

নিহত ইয়াসিনের বাবা মাসুম মিয়া জানান, আমার ছেলে গ্রামের বাড়িতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। কিন্তু পরীক্ষা দেয়নি। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে এসে মালিবাগে মাদরাসা জেনে (মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে) গত ২২ জানুয়ারি ভর্তি করেন।

তার দাবি, ওই নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি জানতেন না, এটা মাদক নিরাময় কেন্দ্র। গত বৃহস্পতিবার তিনি ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও দেখা পাননি। প্রিন্সিপাল ছিলেন না। আজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার ছেলে অসুস্থ। পরে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। তার গলাসহ বিভিন্ন স্থানে মারধরের দাগ দেখতে পেয়েছেন।

হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিউদ্দিন ফারুক জানান, ইয়াসিনের কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন জানিয়েছেন, দুপুরে কেন্দ্রটির বাথরুমে গিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেন ইয়াসিন। নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ধ্যায় ইয়াসিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ডা. সোহেল মাহমুদ। মরদেহের গলায় দাগ আছে। বাম হাতে কনুইয়ের উপরে ও বাম পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য গলা থেকে টিস্যু, ভিসেরা ও রক্ত সংগ্রহ করেছি। সেগুলোর রিপোর্ট এলে জানা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :