আটকের পর ইয়াবা দিয়ে নির্যাতন : ২৪ ঘণ্টায় প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ

0
174

(বাঁ থেকে) মারুফের সামনে থাকা লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, এক পর্যায়ে তার হাতে ইয়াবা দিচ্ছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের পরিদর্শক আব্দুল মালেক

বরিশালে আটকের পর হাতে ইয়াবা দিয়ে মারুফ শিকদার (২০) নামে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার।

বুধবার (১০ মার্চ) সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বরিশালের বিভাগীয় প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডুকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালকের স্টাফ অফিসার ও সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার সকালে এ নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সম্প্রতি ওই যুবককে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদারের অফিস কক্ষে হ্যান্ডকাফ পরিহিত এক যুবকের হাতে পাঁচ পিস ইয়াবা দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। মাদকের কথা স্বীকার না করায় তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন পরিদর্শক মালেক। এ সময় নির্যাতিত যুবক পানি পান করতে চাইলেও পানি না দিয়ে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী যুবক মারুফ বরিশাল নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোডের বেগের বাড়ির এলাকার বাদশা সিকদারের ছেলে। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে পরিদর্শক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে মারুফকে নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোড থেকে আটক করা হয়। পরে মারুফের কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে ওই রাতেই নগরীর কাউনিয়া থানায় একটি মামলা করেন পরিদর্শক আব্দুল মালেক।

মারুফের স্বজনরা জানান, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় মারুফকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। এরপর মারুফের পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে মারুফের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ওই মামলায় ১৭ দিন কারাগারে ছিলেন মারুফ। পরে জামিনে থেকে মুক্ত হলেও পরবর্তীতে হয়রানির আশঙ্কায় নির্যাতনের বিষয়টি গোপন রাখেন মারুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা।

তবে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদারের দাবি, মারুফ সিকদার কাউনিয়া এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আর তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ সত্য নয়। তার শরীর তল্লাশি করে ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল। তার সঙ্গে মাদক কেনাবেচায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি-না তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে নির্যাতন করা হয়নি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বরিশালের বিভাগীয় প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয় পাঠাতে পারব।

আপনার মতামত লিখুন :