গুজবে অনুদানের জন্য ২০ লাখ আবেদন

0
47

করোনায় সব শিক্ষার্থীদের অনুদান দেয়া হচ্ছে এমন গুজবে সারাদেশ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় ২০ লাখ আবেদন জমা হয়েছে। তবে এ অনুদান করোনার কারণে নয় বরং বিগত বছরগুলোতেও দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

গত বছর এ অনুদানের জন্য আবেদনের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ হাজারের মতো। সে তুলনায় এবার সাড়ে ১৯ লাখ বেড়ে গেছে। শতকরা হারে আবেদন ৩ হাজার ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজস্ব খাত থেকে অনুদান হিসেবে ১১ কোটি টাকা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রতি বছর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী, মেধাবী, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগী, দুর্ঘটনাকবলিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেয়া হয়। তার ভিত্তিতে এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে বিভিন্ন ধাপে ৬ কোটি এবং কারিগরি ও মাদরাসা পর্যায়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের অনুদান প্রদানে অনুসরণীয় একটি নীতিমালা রয়েছে। আবেদন শেষে যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্যদের ব্যাংক হিসাবে এ টাকা পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

নীতিমালায় দেখা গেছে, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় দেয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় এ বছরও অনলাইনে আবেদন চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় গত ১ ফেব্রুয়ারি এবং কারিগরিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়। সার্ভার জটিলার কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় আবেদন সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ১৫ মার্চ শেষ হয়। আর কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগে ২১ মার্চ আবেদন চলে।

জানা গেছে, এবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের তিনটি বিভাগে প্রায় ১৫ লাখ জমা হয়েছে। আর কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগে ৫ লাখ ৬ হাজার ৪৫টি আবেদন এসেছে। যা গত বছর দুই বিভাগ মিলে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সেই সংখ্যা ২০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ বছর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে ৬ কোটি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুদান দেয়া হবে। তার মধ্যে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ, একজন শিক্ষক-কর্মচারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পর্যায়ে আট হাজার, উচ্চ মাধ্যমিকে নয় হাজার, স্নাতক/সমমান পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

এক্ষেত্রে মোট অর্থের ২০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ১০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারীদের এবং ৭০ শতাংশ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

জানা গেছে, গত বছর ষষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যায়ের ৮ হাজার ১৮৬ জন শিক্ষার্থী, ৩০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমপরিমাণ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে এ বছর মাদসারা ও কারিগরিতে অনুদানের জন্য ৫ কোটি টাকার মধ্যে একক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার, একজন শিক্ষক-কর্মচারীকে ২০ হাজার, ইবতেদায়ী (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) পর্যায়ের প্রতি শিক্ষার্থী তিন হাজার, দাখিল/এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ে প্রতিজন পাঁচ হাজার, আলিম/এইচএসসি (বিএম)/ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ের প্রতি শিক্ষার্থী ছয় হাজার এবং ফাজিল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ে সাত হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হবে।

জানা গেছে, গত বছর মাদসারা ও কারিগরিতে এ বাবদ ৪ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৫ হাজার ৯৫১ জন শিক্ষার্থী, ২৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৪০০ জন শিক্ষকের মাঝে এ অর্থ বিতরণ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, প্রতিবছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত অনুদান দেয়া হয়ে থাকে। কারা এ টাকা পাবেন তার একটি নীতিমালা আছে। সে অনুযায়ী প্রতিবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান দেয়া হয় বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :