স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের প্রথম নারীশিল্পী নমিতা ঘোষ আর নেই

0
70

অনেকদি ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ক্যান্সারের শিকার হয়েছিলেন। চোখের সমস্যাও ছিলো। তার চিকিৎসার জন্য গত বছরের জুলাই মাসে ২১ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব ভালোবাসা আর চেষ্টাকে থামিয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা নমিতা ঘোষ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর রাতে মৃত্যুবরণ করেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার বোন কবিতা ঘোষ এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন নমিতা ঘোষ। তাকে রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

নমিতা ঘোষের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

মৃত্যুর পর নমিতা ঘোষেল মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। সেখান থেকে আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর পোগোজ স্কুল প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা যুদ্ধের এই কণ্ঠযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে খানিকটা সেরে উঠেছিলেন নমিতা ঘোষ। নিয়মিত হতে চেয়েছিলেন গানে। সবশেষ ১২ মার্চ বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু দুই দিনের ব্যবধানে ১৪ মার্চ থেকে জ্বর ও কাশি নিয়ে দুই হাসপাতাল ঘোরার পর তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ১৬ মার্চ থেকে পপুলার হাসপাতালের এইচডিওতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

বেশ কিছু তথ্য থেকে জানা যায়, নমিতা ঘোষ মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ছিলেন এই আয়োজনে অংশ নেয়া প্রথম নারী শিল্পী।

নমিতার মা জসোদা ঘোষও সে সময় রেডিওতে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে ২৭ মার্চ বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে কেরাণীগঞ্জ হয়ে কুমিল্লা দিয়ে আখাউড়া সীমান্ত পার হন তারা। নরসিঙ্গরে শিল্পী আব্দুল জব্বার ও আপেল মাহমুদের সঙ্গে দেখা হয় নমিতার। তখন সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে অনুপ্রেরণা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছিল।

আগরতলায় থাকতেই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রের কাজে যুক্ত হন নমিতা। পরে সেই প্রামাণ্যচিত্র যুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন সিনেমা হলে দেখানো হয়।

মে মাসে মায়ের সঙ্গে আগরতলা থেকে বিমানে করে কলকাতায় পৌঁছান নমিতা। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সচিব, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমিনুল হক বাদশার উৎসাহে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে।

আপনার মতামত লিখুন :